মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

[the_ad id='15178']

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশী কোম্পানির হাতে তুলে না দেয়ার দাবিতে

 বাসদের পথসভা ২৭-২৮ জুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশী কোম্পানির হাতে তুলে না দেয়া ও মানবিক করিডোর না দেয়ার দাবিতে আগামী ২৭-২৮ জুন ঢাকা- চট্টগ্রাম রোডমার্চ সফল করতে আজ নগরীর বিভিন্ন মোড়ে পথসভা ও প্রচার করেছে  বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা শাখা। বাসদ (মার্কসবাদী)  চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে আজ ২৩ জুন নগরীর নিউমার্কেট মোড়, টাইগারপাস, দেওয়ানহাট, চৌমুহনীবাজার, বাদামতলী, ছোটপোল, বড়পোল,বারিক বিল্ডিং মোড়ে কয়েকটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

- Advertisement -

এসব পথসভায় বক্তব্য রাখেন বাসদ ( মার্কসবাদী) জেলা সমন্বয়ক শফিউদ্দিন কবির আবিদ, জেলা কমিটির সদস্য আসমা আক্তার,হালিশহর থানা কমিটির আহবায়ক জাহেদুন্নবী কনক, ডবলমুরিং থানা কমিটির আহবায়ক দীপা মজুমদার,ডবলমুরিং থানা কমিটির সদস্য রিপা মজুমদার, নেভী দে,মো. শুক্কুর,লাবনী আক্তার প্রমুখ।

- Advertisement -shukee

নেতৃবৃন্দ বলেন,“বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান তিনটি কাজ ছিল- জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার,গণতান্ত্রিক সংস্কার ও নির্বাচন আয়োজন। একদিকে এ কাজগুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই,অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কোনো আলোচনা না করেই বন্দরের টার্মিনাল বিদেশীদের লিজ দেয়া ও মানবিক করিডোরের মত অনেকগুলো এক্তিয়ারবহির্ভূত সিদ্ধান্ত সরকার নিচ্ছে। আবার কোনো রূপ আলাপ-আলোচনা,তর্কবিতর্ক ছাড়া প্রধান উপদেষ্টা বন্দর বিদেশীদের দেয়ার বিরুদ্ধে যারা কথা বলছে,তাদের প্রতিহত করতে আহবান জানাচ্ছেন। এ ধরনের আহবান আমাদের বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে যেকোনো আন্দোলনের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার হুমকির ভাষাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। আমরা সরকারকে এ ধরনের তৎপরতা থেকে সরে আসার আহবান জানাই।”

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন,” বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির ৯২ ভাগ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়। অর্থাৎ দেশের অর্থনীতি প্রধানতঃ চট্টগ্রাম বন্দরের উপর নিভর্রশীল। মংলা ও পায়রা বন্দরের ভূমিকা খুব কম।আবার বাংলাদেশ তিনদিক দিয়ে ভারত দিয়ে ঘেরা,শুধু একদিকে সাগর উম্মুক্ত।ফলে চট্টগ্রাম বন্দর বহির্বিশ্বের সাথে দেশের বাণিজ্যের সদর দরজা।এ সদর দরজা ও বন্দরের মত কৌশলগত সম্পদ নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক লাভ দিয়ে বিচার করা যায়না,দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক-সামরিক নিরাপত্তা,ঝুঁকি ইত্যাদি অনেকগুলো স্পর্শকাতর বিষয় এর সাথে যুক্ত।বিশেষ করে যেখানে আমাদের একটিমাত্র প্রধান বন্দর এবং এর বাইরে মাত্র ২ টা অগুরুত্বপূর্ণ  সমুদ্রবন্দর আছে,সেখানে বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে এর কোনো অংশ লিজ দেয়া আরও ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ যেসব দেশের সাথে তুলনা দেয়া হচ্ছে,সেসব দেশের বন্দর সংখ্যা,সেগুলোর গভীরতা,বন্দরের সাথে পন্যপরিবহনে নৌ,রেল,সড়কপথে আলাদা করিডোরের ব্যবস্থা কিছুর সাথেই কি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনা খাটে? যেমন- ভারতে ১২ টা প্রধান বন্দর ও ২০০ শতাধিক মাঝারি ও ছোট বন্দর আছে। ভিয়েতনামে মোট ২৮৬টি সমুদ্র বন্দর রয়েছে। মালয়েশিয়ায় মোট ২০টিরও বেশি বন্দর রয়েছে।শ্রীলঙ্কায় মোট ৯টি সমুদ্রবন্দর   আছে,যার মধ্যে তিনটি প্রধান বন্দর। এর মধ্যে শুধু কলম্বো বন্দরই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তিন- চারগুণ বেশি সক্ষম।ফলে বিদেশী বন্দরের সাথে প্রেক্ষিতবিহীন তুলনা দিয়ে বিদেশী কোম্পানির হাতে নিউমুরিং টার্মিনাল তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী।”

নেতৃবৃন্দ রোডমার্চ উপলক্ষে আগামী ২৮ জুন দুপুর ৩ টায় নগরীর বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে বন্দরমুখী রোডমার্চে অংশ নেয়া ও বিকাল ৫ টায় বন্দরভবন চত্বরে রোডমার্চের সমাপনী সমাবেশে সবাইকে যোগ দেয়ার আহবান জানান।

 

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও