বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে পাখি খাঁচায় বন্দি ও হত্যা বন্ধের দাবিতে দেশব্যাপী প্রচারণা চালানোর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম নগরীর ডিসি হিলে আজ( ৯ মে) সকাল ৯ ঘটিকায় প্রাতঃ ভ্রমণকারীদের নিয়ে পরিষদের সদস্য পরিমল দাশের সঞ্চালনায় সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সিঞ্চন ভৌমিকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুর রশিদ। প্রধান বক্তা সাংস্কৃতিককর্মী রবিন সাহা। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ মাধব রায় চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজমুল হক, সবুজ রক্ষিত, মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন, পলাশ কুমার, টিটু কুমার নাথ, বাদল দাশ, রিপন কর্মকার, সবুজ রক্ষিত ও কমল দাশ। বক্তারা বলেন, আমাদের দেশে যেকোনো অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ফটকা ফাটিয়ে, বন্দুকের নল দিয়ে, বিষ দিয়ে, বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পেতে পাখি হত্যা করছে মানুষ। এটি একটি জগন্য অপরাধ। পাখি হত্যাকারী মানুষের জাতীয় শত্রু। পাখি হত্যাকারী দেখলে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার অনুরোধ জানান বক্তারা। পাখি হত্যার জন্য প্রশাসনের নীরব ভূমিকাকে দায়ী করছেন বক্তারা। আমরা ছোট বেলায় পড়েছি ‘পাখি সব করে রব, রাতি পোহাইল’ পাখিদের কিচির মিচির ডাকে আমাদের ঘুম ভাঙে। পাখি থেকেই মানুষ উড়োজাহাজ বানানোর চিন্তা করেছিল। পাখিবিজ্ঞানীরা বলেছেন, পাখি না থাকলে মানুষ থাকবে না, কিন্তু মানুষ না থাকলেও পাখি থাকবে। খাঁচায় পাখি বন্দি রাখাও দণ্ডনীয় অপরাধ।
খাঁচায় বন্দি পাখি দেখালে শিশুদের মানসিক বিকাশে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে বলেন বক্তারা। পাখি মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াবে একদেশ থেকে অন্যদেশে এটাই হচ্ছে প্রকৃতির নিয়ম। পাখিদের ভিসা, পাসপোর্ট কিছুই লাগে না। পাখি আমাদের জাতীয় সম্পত্তি। পাখিদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। পাখিদের খাবার ওপানি দেয়া, গাছের ডালে পাখিদের জন্য বাসা তৈরি করে দেয়া প্রতিটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের দেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন নিরাপত্তা আইনে বলা হয়েছে পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড। একই অপরাধ পুনরাবৃত্তি হলে অপরাধীর দুই বছর জেল দুলাখ টাকা জরিমানা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। বাস্তবে এই আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে না বলে দুঃখ প্রকাশ করেন বক্তারা।

