শনিবার, ২ মে ২০২৬

[the_ad id='15178']

শীতার্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসুন: মেয়র ডা. শাহাদাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

শীতার্ত দরিদ্র জনগণের সহায়তায় সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

- Advertisement -

শুক্রবার (২৭ডিসেম্বর) ২৩ নম্বর পাঠানটুলি ওয়ার্ডের সুপাড়িওয়ালা পাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম মহানগর কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আকবর চৌধুরী কবির ডিউকের সভাপতিত্বে এবং ডবলমুরিং থানা বিএনপির সংগঠক  সুফি মোহাম্মদ ইবরাহীমের আয়োজনে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমদাদুল হক বাদশা, এডভোকেট আবদুল মান্নান, এস,এম,আইয়ুব, এম আনোয়ার হোসেন আনু, মাসুদ রানা জাহিদ, এরশাদ  হোসেন, আকরাম খান, ফারুক হোসেন, মো. আলমগীরসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ

- Advertisement -shukee

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, প্রতি বছর তীব্র শীতে অনেক মানুষ প্রাণ হারান এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবান শ্রেণির উদ্যোগ শীতার্তদের বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শীতবস্ত্র বিতরণের মতো কার্যক্রম দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই উদ্যোগ সমাজের সবার মধ্যে মানবিকতা জাগ্রত করে এবং দরিদ্র মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে।

মানবিক সমাজ গঠন সম্পর্কে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধের ভিত্তিতেই একটি সত্যিকারের মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে। সমাজের বিত্তবানদের শীতার্ত, দরিদ্র এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এতে শুধু শীতার্তদের কষ্ট লাঘব হবে না, বরং সমাজে সমতার ভিত্তি শক্তিশালী হবে।”

তিনি আরও বলেন, আমি আপনাদের বলছি, আপনারা সবসময় মনে করবেন, ডাক্তার শাহাদাত একা মেয়র নন-আপনারা সবাই মিলে একজন মেয়র। আপনারা সবাই মিলে আমি। আমি জনগণের মেয়র। আপনাদের সবার কাছে অনুরোধ, নালার মধ্যে ময়লা ফেলবেন না, বিশেষ করে প্লাস্টিক, পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক বোতল, ও ককশিট। কারণ এগুলো জলাবদ্ধতার মূল কারণ। বর্তমানে পলিথিনের কারণে খালের উপর চার-পাঁচ ফিট স্তর জমে গেছে, যা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। পলিথিনের বিরুদ্ধে আমাদের সচেতন হতে হবে। এটার বিকল্প হিসেবে নতুন কিছু বাজারজাত করার পরিকল্পনা করছি। আমি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছি। মশার স্প্রে কার্যক্রম সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা মনিটরিং করছি। ওয়ার্ড কাউন্সিলর না থাকলেও নেতাকর্মীদের একসঙ্গে কাজ করতে বলছি। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।”

মেয়র আরও বলেন, “আবাসিক এলাকাগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে সোসাইটিগুলোর উদ্যোগ যেমন প্রয়োজন, তেমনি নাগরিক সচেতনতার বিকাশও জরুরি। গাছ লাগানো, আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে ফেলা, পানির অপচয় বন্ধ করা এবং এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। আবাসিক সোসাইটিগুলো এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চট্টগ্রামের প্রত্যেক বাসিন্দাকে উন্নয়ন কর্মসূচিতে সরাসরি যুক্ত করতে চাই। আপনারা যদি সিটি কর্পোরেশনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং নাগরিক সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করেন, তবে উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো আরও দ্রুত এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হবে। আবাসিক সোসাইটিগুলোর মাধ্যমে নাগরিকদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে পারে।”

মেয়র ডা. শাহাদাত উল্লেখ করেন, “আমাদের শহরের পরিবেশ সুরক্ষায় গাছ লাগানো এবং এলাকাভিত্তিক বর্জ্য পৃথকীকরণের ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। স্কুল, খেলার মাঠ, পার্ক এবং কমিউনিটি সেন্টারগুলোর উন্নয়নে আবাসিক সোসাইটিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে, শিশুরা যেন একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে, সেই বিষয়ে আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে।”

সভায় উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র বলেন, “আপনারা যদি সময়মতো পৌরকর পরিশোধ করেন এবং সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম-নীতিগুলো মেনে চলেন, তবে আমাদের কাজ আরও সহজ হবে। আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই, কারণ চট্টগ্রামের উন্নয়ন একা কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এটা আমরা সবাই মিলে করতে হবে।”

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন আবাসিক সোসাইটির নেতৃবৃন্দ মেয়রের বক্তব্যের প্রশংসা করেন এবং নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। মেয়র আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নাগরিক ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে চট্টগ্রাম একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি সিটি  হিসেবে গড়ে উঠবে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও