নিজস্ব প্রতিবেদক *

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে মাঠে নেমেছেন । বর্তমানে ১৩তম গ্রেডে কর্মরত এ শিক্ষকেরা সরকারের প্রস্তাবিত ১২তম গ্রেড প্রত্যাখ্যান করে ন্যায্য ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ১০ম গ্রেড প্রদানের দাবি তুলে ধরেছেন সরকারের কাছে।

চট্টগ্রাম জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর ) সকালে নগরীর পিটিআই প্রাঙ্গণে বেতনের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেন।
১০ম গ্রেড আমাদের দাবি নয়, অধিকার উল্লেখ করে মানববন্ধনে সহকারী শিক্ষক জাহেদ হোসেন বলেন, ‘ শিশুকে উন্নত জীবনের স্বপ্নদর্শনে উদ্বুদ্ধ করেন একজন প্রাথমিক শিক্ষক। কিন্তু উন্নত জীবনের এই স্বপ্ন সারথিরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তিনি আরও বলেন , ‘ যেখানে বাংলাদেশ পুলিশের এস আই কিংবা সার্জেন্ট, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, পিটিআই পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ বহুবিধ পদে একই শিক্ষাগত যোগ্যতায় নিয়োগ হয়েও ১০ম গ্রেড ভোগ করছেন কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা সমযোগ্যতার হয়েও কেনো ১৩তম গ্রেডে নিয়োগ পাবে? প্রাথমিক শিক্ষকদের এ ইমেজ সংকটের কারণে মেধাবিরা আজ সহকারী শিক্ষক পদে আসতে চাই না,আর কেউ আসলেও হতাশা ও মনঃকষ্টে কিছুদিন পর চাকুরি ছেড়ে চলে যান।তাই প্রাথমিকের বেতন বৈষম্য দূর করে শিক্ষকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা ফিরিয়ে আনার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

শিক্ষক সজীব বড়ুয়া বলেন,‘প্রাথমিকে যোগ্যতাসম্পন্ন অনেক শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ ন্যায্য সম্মান দিচ্ছেন না।যার ফলে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশার প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে অন্য পেশার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এতে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের কাঙ্খিত মান অর্জন সম্ভব হচ্ছে না।তাই মেধাবীদের এই পেশার প্রতি আকৃষ্ট করতে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড প্রদান করা প্রয়োজন।’
সহকারি শিক্ষক জান্নাতুন নাহার বলেন,‘মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার প্রথম শর্ত মানসম্মত শিক্ষক।যেখানে প্রাথমিক শিক্ষক পরিবারে ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি শিক্ষক স্নাতক ও অন্যান্য ডিগ্রিধারী সেখানে শিক্ষকদের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠার সুযোগ নেই। আর মানসম্মত শিক্ষার আশা নিয়ে শিক্ষকদের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি করে রাখাটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।’
সহকারী শিক্ষক অভি আচার্য্য বলেন, “ সম্মানে এগিয়ে কিন্তু বেতনে পিছিয়ে প্রাথমিকের শিক্ষকেরা। তাই যোগ্য বেতন দিয়ে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান স্থাপনে ১০ম গ্রেডের বিকল্প নেই। এতে মেধাবীদের অন্য চাকরিতে যাওয়ার প্রবণতা হৃাস পাবে ও প্রাথমিক শিক্ষা আরো মানসম্মত হবে বলে মনে করি, আমরা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শিক্ষকেরা এ পেশায় সর্বোচ্চটা দিতে চাই। কিন্তু মানবেতর জীবনযাপন করে তা সম্ভব নয়।” তিনি প্রধান উপদেষ্টার কাছে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।
অন্যান্য বক্তারাও একই সুরে বলেন, শিক্ষার ভিত্তি রচনা করতে গিয়ে তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তৃতীয় শ্রেণির নাগরিকের মর্যাদা নিয়ে প্রথম শ্রেণির নাগরিক গড়ে তোলার কাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাদের দাবির প্রতি সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

।

