শারদীয় দুর্গোৎসব শুক্রবার (১৬অক্টোবর) থেকে মহাষষ্ঠী শুরু হবে। এরই মধ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। পৌরশহর থেকে গ্রাম, পাড়া-মহল্লা—সবখানেই চলছে উৎসবের আমেজ। মণ্ডপে মণ্ডপে প্যান্ডেল নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন। আর প্রতিমা তৈরির কারখানাগুলোতে দুমাস যাবত দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করেছেন মৃৎশিল্পীরা। রং-তুলির শেষ আঁচড়ে পূর্ণতা পাচ্ছে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমার অবয়ব।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম আমাদের জানান, সীতাকুণ্ডে এবার ৭৪ টি মঠ-মন্দিরে দুর্গোৎসব ও পূজার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ড উপজেলায় এবার ৭৪টি মঠ-মন্দিরে দুর্গোৎসব সহ ৫টি ঘটপূজার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ। কোথাও গতরাতভর চলছে শেষ ধাপের রং, কোথাও প্রতিমায় শাড়ি, গহনা ও অন্যান্য অলংকার পরানোর কাজ।
সীতাকুণ্ড পৌরসদরের বিভিন্ন মন্ডপে ঘুরে দেখা যায়, উৎসবমুখর পরিবেশ , মন্ডপগুলোতে নিরাপত্তা পাহারায় নিয়োজিত আনসার, পুলিশ,সেচ্ছাসেবকরা ক্যাম্প করে অবস্হান নিয়েছে। কেউ প্রতিমার মুখাবয়বে তুলির আঁচড় দিচ্ছেন, কেউ ব্যস্ত চোখের তুলিতে। আবার কেউ দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের পোশাক ও অলংকার সাজাতে ব্যস্ত। প্রতিমা তৈরী কারখানাগুলোতেও নিরাপত্তা নজরদারীতে রাখা হয়েছে।

সকল মন্ডপগুলোতে পুলিশ আনসার সহ সেচ্ছাসেবকরা নিরাপত্তা দিবেন। এদিকে প্রতিমা কারখানাগুলোতে ঘুরে দেখা যায় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিমা মন্ডপগুলোতে সরবরাহ চলছে।
চাহিদা অনুযায়ী তৈরি হচ্ছে প্রতিমা
পৌরসদরের মা প্রতিমা শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী মৃৎশিল্পী আদিত্য আচার্য জানান, তাঁর কারখানায় এবার ৪০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দামের প্রতিমা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির ক্রেতার চাহিদা বিবেচনায় রেখেই প্রতিমার নকশা ও সাজসজ্জা করা হয়েছে। প্রতিমা তৈরী কারিগর বলেন, এ বছর তাঁর কারখানা থেকে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকার প্রতিমা বিক্রি করেছেন।
মৃৎশিল্পী শ্রাবণ পাল বলেন, “সীতাকুণ্ডের প্রতিমার সুনাম দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও রয়েছে। প্রতিমা তৈরিতে সমুদ্রের কাদামাটি, বাঁশ-খড়সহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হয়। অনেক শ্রম ও সাধনার পরই দেবী দুর্গার রূপ ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়।”
প্রতিমা ঘিরে কর্মচাঞ্চল্য, বাড়ছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিমা তৈরির সঙ্গে সরাসরি জড়িত মৃৎশিল্পীদের জীবিকার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে।
মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন
প্রতিমা স্হাপনের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন মঠ-মন্দির ও পূজামণ্ডপে প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার কাজ ও শেষ পর্যায়ে।মন্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের চলাচল ও সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে প্রবেশপথসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। অনেক মণ্ডপেই ভিন্নধর্মী নকশা ও সাজসজ্জার মাধ্যমে আলাদা সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলেছে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলায় বাড়তি নজর
শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও নেয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি। মন্ডপগুলোতে বিভিন্ন পর্যায়ে নজরদারিও থাকছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সীতাকুণ্ড পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অমলেন্দু কনক বলেন, উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কারণে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূলে এবার দুটি দুর্গোৎসব হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি মণ্ডপে আজান ও নামাজের সময় সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র ও আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল বাহাদুর শাস্ত্রী জানান, মণ্ডপের ভেতরে ও বাইরে মাদক সেবন না করার বিষয়ে আয়োজকদের সতর্ক করা হয়েছে। কেউ মাদক সেবন করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সীতাকুণ্ড এখন উৎসবের রঙে রাঙতে শুরু করেছে। প্রতিমার স্হাপনে মণ্ডপে আলোকসজ্জার ব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠেছে বিভিন্ন এলাকা। মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে মাটির অবয়বে ফুটে উঠছে দেবীর সেই রূপ।
সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনে ব্যস্ত সীতাকুণ্ডের সনাতন ধর্মান্তরবাসী।
সীতাকুণ্ড পৌর সভা পুজা কমিটির সভাপতি সুজন মল্লিক,সাধারণ সম্পাদক পাবন কৃষ্ণ দাশ জানায়,পৌরসভা ও উপজেলায় মোট ৭৪ টি পুজা মন্ডপে দূর্গাপুজা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা,নিরাপত্তা সন্তোষজনক। আশাকরি বিদ্যুৎ এর ও তেমন সমস্যা হবেনা,প্রতিটি মন্ডপে জেনারেটর,সিসি ক্যামেরা স্হাপন করা হয়েছে। তাছাড়া রাজনৈতিকদলগুলোও সহযোগিতা করছে।

