চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষা দিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মাঠে কাজ করছে। তবে শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত সচেতনতা ও সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার (৭অক্টোবর) ২৫নম্বর রামপুর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আয়োজিত বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ওষুধ ছিটানো এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। কার্যক্রমটি সফল করতে জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করে ২৫নং রামপুর ওয়ার্ড বিএনপি।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু একটি জনস্বাস্থ্যঝুঁকি। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে বিশেষ মশক নিধন ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সমন্বিতভাবে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে বিভিন্ন এলাকায় ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিয়ন্ত্রণেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। এসব জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। তাই মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বাসাবাড়ির ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, বেজমেন্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ছাদবাগান এবং পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

মেয়র বলেন, চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি করছেন। নগরীর অলিগলি, নালা-নর্দমা, খাল ও জলাবদ্ধ এলাকাগুলোতে নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কোথায় এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংসহ বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নগরবাসীকে বারবার বলা হচ্ছে—কোনো স্থানে তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। কারণ এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চসিকের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। গত কয়েক দিনে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যুর ঘটনাও আমরা দেখেছি। একটি মৃত্যুও আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তাই পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপের দিকে না যায়, সেজন্য প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও জনসচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, এই নগরীতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও মতের মানুষ বসবাস করেন। নগরীর প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোনো ধরনের দলীয় বিভাজন না করে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
মেয়র বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মশক নিধনকর্মীদের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে নাগরিকদেরও নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। শুধু সিটি কর্পোরেশনের ওপর নির্ভর করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।
তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজের ঘর, ছাদ, বারান্দা, বাগান ও আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, বোতল, বালতি কিংবা যেকোনো পাত্রে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করুন। নির্মাণাধীন ভবন ও বেজমেন্টে পানি জমে থাকলে সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করতে হবে। সবাই সচেতন হলে সম্মিলিতভাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামকে একটি সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও হেলদি নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বদ্ধপরিকর। এ কাজে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি প্রমুখ।

