বিদেশি নাগরিকদের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাতায়াত বেশি হওয়ায় অপরাধীরা ছদ্মবেশে অবস্থান নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় নগরের চান্দগাঁওয়ে র্যাব-৭ মিডিয়া সেন্টারে হারানো সরকারি অস্ত্র উদ্ধার ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সাম্প্রতিক দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে জানিয়ে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াতের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার নগরের খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি ভবন থেকে অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণার অভিযোগে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় শতাধিক ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়।
এর আগে কক্সবাজারের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই হাজার আইফোনসহ ছয় চীনা ও তাইওয়ানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৬৯ জন বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান র্যাব-৭ অধিনায়ক।
১৬ শতাংশ অস্ত্রের হদিস নেই, উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা
চট্টগ্রামে হারানো সরকারি অস্ত্রের প্রায় ৮৪ শতাংশ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭ অধিনায়ক। বাকি প্রায় ১৬ শতাংশ অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এসব অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে র্যাবের নেতৃত্বে বিশেষ কার্যক্রম চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, যাদের কাছে এ ধরনের অস্ত্র রয়েছে, তারা সবাই অপরাধী নন। বিভিন্নভাবে অস্ত্র তাদের কাছে চলে আসতে পারে। আবার কোথায় বা কীভাবে তা জমা দিতে হবে, তা নিয়েও অনেকে ভয় পেতে পারেন।
এমন ব্যক্তিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গোপনে অস্ত্রের তথ্য দিলে বা উদ্ধারে সহযোগিতা করলে পুরস্কার দেয়া হবে।
পরিত্যক্ত অবস্থায় কোনো অস্ত্র পাওয়া গেলে সেটিও র্যাবের কাছে পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি অস্ত্রের সন্ধান পেলে নিজে ঝুঁকি না নিয়ে র্যাবকে জানানোর পরামর্শ দেন।
অপহরণের অভিযোগের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণের অভিযোগের অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি জানান, গত কয়েক দিনে তিনটি অপহরণের অভিযোগে র্যাব সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালান। পরে তদন্তে দেখা যায়, একটি ঘটনায় অনলাইন জুয়ায় তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত এক ব্যক্তি পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন।
অন্য একটি ঘটনায় একজন বান্দরবানের লামায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলেন। আরেকজন পরিবারের সঙ্গে রাগ করে বাড়ি ছেড়ে গিয়েছিলেন।
মিথ্যা বা সাজানো অভিযোগের পেছনে দীর্ঘ সময় ব্যয় হলে প্রকৃত গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের ঘটনায় র্যাবের সক্ষমতা ও জনবল ব্যবহারে সমস্যা হয় বলে জানান তিনি। এ কারণে জনগণকে প্রকৃত তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান র্যাব-৭ অধিনায়ক।
জঙ্গল সলিমপুরে এখনই ক্যাম্প প্রত্যাহার নয়
জঙ্গল সলিমপুর প্রসঙ্গে র্যাব-৭ অধিনায়ক বলেন, এলাকাটি এখনো র্যাবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগের বিষয়।
যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের পর থেকে সেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেনি দাবি করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত জঙ্গল সলিমপুর থেকে র্যাবের ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হবে না।

