ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় তিনি ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পরিদর্শন শেষে চমেক হাসপাতাল এবং সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্ন অভিযানের তদারকি করেন মেয়র। পরিদর্শনকালে মেয়র ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওয়ার্ডের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। রোগীদের অবস্থা অনুযায়ী সর্বাধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি প্রয়োগ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য আমি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ডেঙ্গুওয়ার্ড পরিদর্শন করেছি এবং চিকিৎসকদের সাথে সার্বিক বিষয়ে মতবিনিময় করেছি। এখানে রোগীদেরকে চিকিৎসায় সর্বাধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে, বর্তমানে মশাবাহিত রোগের মৌসুম হওয়ায় এখানে রোগীর চাপ বেশি। এজন্য আমরা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের সেবার জন্য ওয়ার্ডে কার্যক্রমের সম্পসারণ করব। আগামীকাল হাসপাতালটি পরিদর্শন করে রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষার বিষয়টি আরো বেগবান করতে পদক্ষেপ নিব। এছাড়া, সিভিল সার্জনের সাথেও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে প্রতিদিন যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে প্রতিটি ওয়ার্ডে মশার ঔষধ ছিটানো হচ্ছে। আমাদের নানামুখী পদক্ষেপে চট্টগ্রাম মহানগরীতে পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর তুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতে তুলনামূলকভাবে ভাল আছে।
তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশন তার দায়িত্ব পালন করছে। তবে শুধু সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। তিন দিনে একদিন জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং রোগীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার আহ্বান জানান। এসময় হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা ডেঙ্গু পরিস্থিতি, রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং ওয়ার্ডের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে মেয়রকে অবহিত করেন।

