নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভোরের ভয়াবহ তুষারধস ও আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনো আট শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল সাড় আটটার দিকে নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর উত্তরাঞ্চলীয় রসুয়া জেলায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে।

নেপাল পুলিশের দেয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৮টি দেশের ৪৬৬ জন বিদেশি নাগরিক এবং নেপালের ১১৩ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ৫৪ জন যুক্তরাষ্ট্রের এবং ৩৩ জন যুক্তরাজ্যের নাগরিক। এ ছাড়া চীনের তিব্বতে ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চলছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হওয়ায় নিখোঁজ ও মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বিবিসির সুত্রে জানা গেছে, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী এলাকাটিতে ভূমিকম্প আঘাত হানার পর এই মারাত্মক হিমবাহধসের সূচনা হয় এবং তা মুহূর্তের মধ্যে আকস্মিক রূপ নিয়ে লোকালয়ে আছড়ে পড়ে। এ ঘটনার প্রভাবে সীমান্তসংলগ্ন চীন অংশও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, এই ঘটনায় নেপালের পাশাপাশি সংলগ্ন চীন অংশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং উভয় দেশ যৌথভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।
এবার ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর সৌদির
এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে নেপালের ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের একাধিক কর্মকর্তাও নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধার তৎপরতায় বিমান বাহিনী ও দুর্যোগ মোকাবিলা টিম পাঠিয়েছে নেপাল সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বিবিসিকে পরিস্থিতি বর্ণনায় বলেন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কল্পনার অতীত। ২০১৫ সালের প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের পর এটিই নেপালের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার জনবসতিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট হিসেবে ব্যবহৃত পাহাড়ি সড়ক, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও একাধিক প্রধান সেতু পুরোপুরি ধসে পড়েছে। ফলে উপদ্রুত দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন উদ্ধারকারীরা।
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর শতাধিক নিহত এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এদের বেশিরভাগই পর্যটক।
এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞে বাংলাদেশের জনগণ মর্মাহত ও শোকাহত। আমরা পরিস্থিতির সর্বশেষ খবর অনুসরণ করছি। শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের অনেকেই মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটকরাও রয়েছেন।’
বার্তায় আরও বলা হয়, এই কঠিন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ নেপালের সরকার এবং দেশটির বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।
দুর্যোগে নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও বলা হয়, নেপালের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে বিভিন্ন সংস্থা ও উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।
দুর্যোগকবলিত এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থা কাজ করছে।

