বাংলাদেশের শিল্পখাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে উৎপাদনশীল শিল্পখাত থেকে এবং এ খাত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ফলে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, বরং শ্রমিক, সরবরাহকারী, ব্যাংক, পরিবহন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর এর বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বর্তমান বাস্তবতায় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ না হলেও সীমিত সক্ষমতায় বা লোকসানে পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময়মতো সহায়তা না দিলে অদূর ভবিষ্যতে সেগুলোও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই শিল্প পুনরুদ্ধারের নীতিতে “প্রতিরোধই সর্বোত্তম সমাধান” হওয়া উচিত।

সরকারের উচিত একটি National Industrial Health Check Program চালু করা। এর আওতায় অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক, প্রযুক্তিগত, ব্যবস্থাপনাগত, জ্বালানি ও বাজারসংক্রান্ত সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে। অডিটের ফলাফলের ভিত্তিতে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা গেলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার আগেই ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।
এর পাশাপাশি শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী ৬ মাসের Apprenticeship Program চালু করা যেতে পারে, যেখানে সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে নতুন দক্ষ জনশক্তি তৈরি করবে। দক্ষ শ্রমিক উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, উৎপাদন ব্যয় কমায় এবং নতুন বিনিয়োগের সুফল দ্রুত নিশ্চিত করে।
বিদ্যমান শিল্পকে টিকিয়ে রাখার এই কৌশল দেশীয় উদ্যোক্তাদের আস্থা বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব গন্তব্য হিসেবে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের শিল্পনীতিতে এখন সময় এসেছে Reactive Policy থেকে Preventive Industrial Policy-তে রূপান্তরের। অর্থাৎ, শিল্প বন্ধ হওয়ার পর নয়, বরং সংকটের প্রাথমিক পর্যায়েই সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
আজকের একটি সচল কারখানাকে টিকিয়ে রাখা, আগামীকালের একটি নতুন কারখানা প্রতিষ্ঠার চেয়েও বেশি অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি করতে পারে। তাই শিল্প পুনরুদ্ধারের মূলমন্ত্র হওয়া উচিত: “আগে টিকিয়ে রাখি, তারপর সম্প্রসারণ।”
লেখক- নির্বাহী পরিচালক, এশিয়ান গ্রুপ

