বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

[the_ad id='15178']

জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় ধ্বসে শিশুর প্রাণহানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় পাহাড় ধসে আশরাফুল ইসলাম তানভীর ( ১০ মাস)  বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির মা । তাকে  প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রিরিজ দিয়েছেন হাসপাতালের  চিকিৎসক।

- Advertisement -

আজ বুধবার (৮ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সলিমপুর  ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৫ নম্বর সমাজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

- Advertisement -shukee

নিহত তানভীর ওই এলাকার বাসিন্দা মহিন উদ্দীনের ছেলে। পাহাড় ধসের সময় মা ও শিশু ঘরের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বর্তমানে বাড়িতে রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে সীতাকুণ্ডসহ পুরো চট্টগ্রামজুড়ে টানা ভারী বর্ষণ হচ্ছিল। পাহাড় কেটে ঘর তৈরী করার ফলে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম  হয়ে পাহাড় ধ্বসে  পড়ে। বুধবার সকালে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে মহিন উদ্দীনের বসতঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যে ঘরটি মাটিচাপা পড়ে যায়।

জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় ধ্বসে শিশুর প্রাণহানির ঘটনা পরিদর্শন করছেন সীতাকুণ্ড ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম

ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে মাটির নিচ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় মা ও ১০ মাস বয়সী শিশুকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তানভীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মা চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন।

খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম  ও স্থানীয় থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ সংগ্রহের পাশাপাশি তাৎক্ষাণিক ২৫ হাজার টাকা,শুকনো খাবার বিতরণ করেন ও পাহাড় ধ্বসের কারণ খতিয়ে দেখছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ঘেঁষা ছিন্নমূল এলাকায়  স্বল্প টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে শতশত পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে ঘর করে বসবাস করছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কা দেখা দিলেও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ এবং নিরাপদ স্থানে স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবীর কার্যকর সমাধান হয়নি বাসিন্দাদের মারমুখী আন্দোলনের কারণে।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে থাকা অন্যান্য পরিবারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে ও বাসা ছেড়ে কেউ সড়ে যেতে রাজি নয়। প্রশাসন জোড়পূর্বক সরাতে গেলেও হয়ে যেতে পারে দাঙ্গা হাঙ্গামা,সেই বয়ে প্রমাসনও পুলিশ ব্যবহার করছেনা।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও