জ্বালানি তেল-বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল,রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কার,জাতীয় ন্যুনতম মজুরি নির্ধারণসহ ৭ দফা দাবিতে ১৬-২২ জুন কেন্দ্রঘোষিত দাবি সপ্তাহে বাসদ ( মার্কসবাদী) পাঁচলাইশ থানা শাখার উদ্যোগে শনিবার ( ২০ জুন) বিকালে চট্টগ্রামের ২ নম্বর গেট মোড়ে পথসভা ও প্রচারপত্র বিলি করা হয়।
পথসভায় বক্তব্য রাখেন বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক এড শফি উদ্দিন কবির আবিদ ও বাসদ(মার্কসবাদী) পাঁচলাইশ থানা শাখার আহবায়ক আসমা আক্তার।

পথসভা থেকে নেতৃবৃন্দ জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন,নবনির্বাচিত বিএনপি জোট সরকার অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে লুটপাটের দায় জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আমেরিকার সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিকে দেশের সার্বভৌমত্ব,জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন,“ এ চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশকে আগামী ১৫ বছর আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে কমপক্ষে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের এলএনজি আমদানি করতে হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। টনপ্রতি ৭৫-৮০ ডলার বেশি দামে আগামী পাঁচ বছর প্রতিবছর ৭ লাখ টন করে গম ক্রয় করতে হবে।আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি দামে ২৬ লাখ টন সয়াবিন ও সয়াবিনজাত পণ্য কিনতে হবে, যার মূল্য দাঁড়াবে ১২৫ কোটি ডলার। তুলা, ফলমূল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য কেনার জন্য বাংলাদেশকে ব্যয় করতে হবে ৩৫০ কোটি ডলার বা ৪২ হাজার কোটি টাকা।
মার্কিন বেসামরিক কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিনা দরপত্রে ৩৫ হাজার কোটি টাকায় ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে হবে।সামরিক সরঞ্জাম কেনা বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্র ৬ হাজার ৭১০টি পণ্যে শুল্ক-ছাড় সুবিধা পাবে, বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ সুবিধা পাবে মাত্র ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্যে। এর মধ্যে অধিকাংশ পণ্য রফতানির সুযোগ ও সামর্থ্য বাংলাদেশের নেই।এগুলোসহ আরও অসম শর্তের কারণে বাংলাদেশের অসংখ্য মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বন্ধ হবে,লাখ লাখ শ্রমিক কাজ হারাবে।ফলে জাতীয় স্বার্থবিরোধী এ অধীনতার চুক্তি বর্তমান বিএনপি সরকারকে বাতিল করতে হবে।”
বক্তারা বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, আমেরিকার সঙ্গে সম্পাদিত অবৈধ বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের গণতান্ত্রিক সংস্কার, কৃষক-শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং এসব দাবির ভিত্তিতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

