বুধবার, ৬ মে ২০২৬

[the_ad id='15178']

সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের প্রতিনিধিসভায় বক্তারা

অসম মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল না হলে দেশের নিরাপত্তা, জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত অধীনতামূলক বাণিজ্য চুক্তিসহ জাতীয় স্বার্থবিরোধী সকল চুক্তি বাতিল, চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা বন্ধ, ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা ও ফিলিস্তিনের গাজায় গণহত্যা বন্ধসহ দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন-যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে গণআন্দোলন বেগবান করার লক্ষ্যে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের  প্রতিনিধিসভা আজ মঙ্গলবার ( ৫ মে) সকালে সিপিবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

- Advertisement -

সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি কমরেড অশোক সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরাম সদস্য  কমরেড মঞ্জুর আলম মিঠু, জাতীয় গণফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক কমরেড রজত হুদা, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলী সদস্য কমরেড শামীম ইমাম, বাংলাদেশ জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাজাহান আলী সাজু, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড শাহ আলম, কমরেড মৃণাল চৌধুরী, গণমুক্তি ইউনিয়ন  কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য  কমরেড রাজা মিঞা, বাসদ( মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য এডভোকেট শফিউদ্দিন কবির আবিদ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বাংলাদেশ জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম  জেলা নেতা নুরুল আলম মন্টু, সিপিবির জেলা যুগ্ম সম্পাদক নুরুচ্ছফা ভুঁইয়া, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা কমিটির সদস্য জাহেদুন্নবী কনক, সাম্যবাদী আন্দোলনের জেলা  ইনচার্জ শাহীন মঞ্জুর, বাসদ জেলা সদস্য হেলাল উদ্দিন কবির,সিপিবি জেলা সেক্রেটারি অনুপম বড়ুয়া,সাম্যবাদী আন্দোলন খাগড়াছড়ি জেলা নেতা মো. রফিক ও পদ্মরানী চাকমা। সভাটি পরিচালনা করেন বাসদ চট্টগ্রাম জেলা ইনচার্জ আল কাদেরী জয়।

- Advertisement -shukee

সিপিবি কেন্দ্রীয় সভাপতি কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন,“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ নামক বাণিজ্যচুক্তিটি অসম ও অন্যায্য এবং বাংলাদেশের জন্য অধীনতামূলক। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ শুধু অর্থনেতিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, এতে নিরাপত্তা, জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বও ক্ষুণ্ন হবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজন থাকুক বা না থাকুক প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করতে হবে। এর ফলে বাংলাদেশের কৃষি ও শিল্পখাত মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এধরণের চুক্তি করার এক্তিয়ার না থাকলেও, নির্বাচনের মাত্র  ৩  দিন আগে এ চুক্তি করা হয়েছে। সংসদে সরকার ও বিরোধীদলের সাংসদরা সংসদে এ চুক্তি সম্পর্কে নীরব রইলেন। বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার এ চুক্তি বাতিল না করে ইতোমধ্যে চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি করেছে। অথচ মার্কিন ফেডারেল কোর্ট পাল্টা শুল্ক আরোপ করা অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে,যার সুত্র ধরে  মালয়েশিয়া আমেরিকার সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিটি বাতিল করেছে,ভারত স্থগিত রেখেছে। বাংলাদেশও একই পদক্ষেপ নিতে না পারলে,ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বড় বিপর্যয়ের কবলে পড়বে। ফলে বিএনপি সরকারকে অবিলম্বে  এ অন্যায্য চুক্তি বাতিল করতে হবে। অন্যথায় সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধীজোট  জনগণকে সম্পৃক্ত করে জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলবে।”

নেতৃবৃন্দ সরকারকে চুক্তি বাতিলের আহবান জানিয়ে আরও বলেন,“ চুক্তির ধারা অনুযায়ী ৬০ দিনের লিখিত নোটিশ প্রদান করে যে কোনো সময় এ চুক্তি থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে যেতে পারবে। দেশের মানুষের প্রত্যাশা নির্বাচিত বিএনপি সরকার এই বাণিজ্য চুক্তি বাতিলে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার প্রদান করবে। সরকার চুক্তি বাতিল না করলে দেশ বাঁচানোর জন্য সরকারকে চুক্তি বাতিলে বাধ্য করতে রাজপথে নেমে আসতে দেশবাসীকে আহ্বান জানাই।”

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন “চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বিনা-দরপত্রে মার্কিন কোম্পানি বোয়িং-এর কাছ থেকে বিমান কেনা হচ্ছে ৪৫ হাজার কোটি  টাকা দিয়ে, কিনতে হবে সামরিক সরঞ্জাম। বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্র ৬ হাজার ৭১০টি পণ্যে শুল্ক-সুবিধা পাবে। এর ফলে বাংলাদেশ বছরে ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যস্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এরকম কোনো দেশের সাথে অর্থাৎ চীন, রাশিয়া ইত্যাদি দেশের সাথে বাংলাদেশ কোনো বাণিজ্যচুক্তি করতে পারবে না। এ শর্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল।”

লাভজনক নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল সম্পর্কে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহবান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন,“বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেয়ার  অন্তর্বর্তী সরকার চট্টগ্রামে লালদিয়ায় নতুন টার্মিনাল নির্মাণ এবং পানগাঁও টার্মিনাল হ্যান্ডলিং এর জন্য বিদেশি সুইডেন ও ডেনমার্কের কোম্পানিকে ইজারা দিয়েছে। লাভজনক নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ড নামক বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেয়ার পাঁয়তারা করেছিল- যা এখনও চলমান আছে। অবিলম্বে লালদিয়া ও পানগাঁও ইজারা চুক্তি বাতিল এবং নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা দেয়ার পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে। আমেরিকা, ভারতসহ সাম্রাজ্যবাদী দেশের সাথে স্বাধীনতাত্তোরকালে সম্পাদিত সকল চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী সকল চুক্তি বাতিল করতে হবে। আমেরিকার সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিসহ চট্টগ্রাম বন্দর, রামপাল, রূপপুর, আদানি ও টার্মিনাল সংক্রান্ত জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে স্বাক্ষরিত সব চুক্তি ও প্রকল্পগুলো বাতিল করতে সরকারকে বাধ্য করতে সর্বাত্মক গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”

প্রতিনিধি সভা থেকে আগামী সোমবার (১১ মে) নগরীর পুরাতন রেল স্টেশনে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়।

সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের প্রতিনিধিসভায় বক্তব্য রাখছেন সিপিবি কেন্দ্রীয় সভাপতি কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন

 

 

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও