নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নোয়াখালীতে বজ্রপাতে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা দুইটার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি তিনজনের মৃত্যু হয়েছে নেত্রকোনায়। এ ছাড়া দুজনের মৃত্যু হয়েছে সুনামগঞ্জে; একজন করে মৃত্যু হয়েছে হবিগঞ্জ ও নোয়াখালীতে।
খালিয়াজুরিতে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাড়ি ইউনিয়নের বাঘবেড় গ্রামের বাসিন্দা মো. আবদুল মোতালেব, খালিয়াজুরি উপজেলার সাতগাঁও গ্রামের মোনায়েম খাঁ ওরফে পালান ও সিরাজগঞ্জ জেলার শতর উপজেলার মেচরা ইউনিয়নের আকনাদিঘির চর গ্রামের মো. শুভ মণ্ডল। আর হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মকসুদ মিয়া।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবদুল মোতালেব সকালে খালিয়াজুরিতে জগন্নাথপুর ফেরিঘাটে নদে বড়শি ফেলে মাছ ধরছিলেন। হঠাৎ করে ঝড়–বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে তাঁর শরীর ঝলসে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সাতগাঁও গ্রামের মোনায়েম খাঁ বাড়ির সামনের হাওরে ধান কাটছিলেন। বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। সিরাজগঞ্জের শুভ মণ্ডল কয়েক দিন ধরে ধান কিনতে খালিয়াজুরির কৃষ্ণপুর এলাকায় অবস্থান করছিলেন। দুপুরে হাওরে ধান কেনার সময় বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে খালিয়াজুরি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাদির হোসেন শামিম বলেন, বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।
সুনামগঞ্জে সোমবার দুপুরে বজ্রপাতে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে মারা যাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর গ্রামের আবদুল কাদিরের ছেলে জমির উদ্দিন (৩৮) ও সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈঠাখালি গ্রামের কাদির হোসেনের ছেলে জমির হোসেন (৪০)।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হচ্ছিল। এ সময় সদর উপজেলার দেখার হাওরে অন্য কৃষকদের সঙ্গে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন কৃষক জমির উদ্দিন। পরে তাঁকে দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অপর দিকে একই সময়ে বৈঠাখালি গ্রামের জমির হোসেন বাড়ি থেকে বের হয়ে সুরমা নদীর ঘাটে নিজের দোকান খুলতে যাচ্ছিলেন। পথে বজ্রপাতে তিনি আহত হন। তাঁকেও সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মো. শফিকুর রহমান বজ্রপাতে এই দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ১৮ এপ্রিল বজ্রপাতে সুনামগঞ্জে আরও পাঁচজন কৃষকের মৃত্যু হয়।
এদিকে বেলা দুইটার দিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে বৃষ্টির সময় বাড়ির পাশের মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন মকসুদ মিয়া নামের এক ব্যক্তি। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বৃষ্টির সময় মকসুদ মিয়া তাঁর গরু আনতে বাড়ির পাশের মাঠে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. কামরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মায়ের সঙ্গে খেতে বাদাম তুলছিলেন আরাফাত হোসেন (১৮)। এর মধ্যে শুরু হয় ঝড়বৃষ্টি। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতের আঘাতে মারা যান আরাফাত। ঘটনাটি ঘটেছে আজ বেলা পৌনে দুইটার দিকে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে।
স্থানীয় লোকজন জানান, ঘটনার পর মায়ের বুকফাটা আহাজারি শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আরাফাতের লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
আরাফাত ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আফছার উদ্দিনের ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি স্থানীয় খাসেরহাট এলাকায় একটি মুদিদোকান চালাতেন।
খবর পেয়ে হাতিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন বলেন, আরাফাত হোসেন নামের ওই তরুণ দুপুরে তাঁর মায়ের সঙ্গে বাড়ির পাশের বাদামখেতে বাদাম তুলছিলেন। মা ও ছেলে খেতের দুই পাশে ছিলেন। এরই মধ্যে হঠাৎ ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রাঘাতে বাদাম তোলা অবস্থায় খেতেই আরাফাতের মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, গতকাল রবিবার দেশের অন্তত সাত জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

