বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

[the_ad id='15178']

সাংবাদিক গড়ার কারিগর আব্দুল আজিজ মাহফুজের মৃত্যুতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সুর

ড.মনওয়ার সাগর

সীতাকুণ্ডের জনপদ আজ নীরব। বাতাসে যেন ছড়িয়ে আছে এক অপূরণীয় শূন্যতার সুর। যে মানুষটি দশকের পর দশক ধরে বাংলার মিডিয়া জগতকে তার লেখনী, তার সাহস, তার নৈতিকতার আলো দিয়ে পথ দেখিয়েছেন,সে মানুষটি আর নেই। চারণ সাংবাদিক, পাক্ষিক গিরি সৈকত-এর প্রকাশক-সম্পাদক, সাপ্তাহিক বারুদ-এর কর্ণধার ও সম্পাদক, বাংলাদেশ রিপোর্টার্স সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি-আমাদের সবার প্রিয় আব্দুল আজিজ মাহফুজ পরলোকে পাড়ি জমিয়েছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।

- Advertisement -

মুন্সীগঞ্জের নিজ বাড়িতে আজ  শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ৯টায় তাঁর ইন্তেকালের খবরটি যেন সমগ্র সাংবাদিক সমাজকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

- Advertisement -shukee

মাহফুজ ভাই এর বাড়ী মুন্সিগঞ্জ হলেও জীবনের সিংহভাগ সময় সীতাকুণ্ডেই কাটিয়েছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি কিছুদিন আর আর টেক্সটাইল হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক ছিলেন,ভাবীও সীতাকুণ্ড টিএন্ডটি অফিসে কর্মরত ছিলেন।

তিনি ছিলেন সাংবাদিক গড়ার কারিগর আমাদের সাংবাদিকতার গুরু, যার কাছে হাতে খড়ি নিয়েছিলাম, আমাদের প্রথম আলোর প্রদীপ। আমি নিজে যদি সাংবাদিকতার অক্ষরজ্ঞান অর্জন করে থাকি, তবে সেই অক্ষরজ্ঞান শেখার প্রথম পাঠশালা ছিল তাঁর সান্নিধ্য। তাঁর কাছেই শিখেছি সত্যের পাশে দাঁড়ানো, শিখেছি কলমের ইজ্জত রক্ষা করা, শিখেছি ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীক থাকার শিক্ষা।

আমার মতোই দৈনিক আজাদীর চীফ রিপোর্টার হাসান আকবর, একুশে টেলিভিশনের বার্তা প্রধান সাইফ ইসলাম দিলালসহ অসংখ্য সাংবাদিক তাঁর হাত ধরে উঠে এসেছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর স্নেহ, তাঁর দিকনির্দেশনা, তাঁর ত্যাগ, তাঁর অদম্য সাংবাদিকতাকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছেন। সাংবাদিকতার কঠিন পথটিকে তিনি আমাদের জন্য সহজ করেছিলেন; ভুল করলে শাসন, ঠিক পথে হাঁটলে প্রেরণা এই ছিল তাঁর মহৎ মানুষের সহজ-সরল রূপ।

আহা!রাত বিরাতে রোকেয়া কিরণ  ভাবীকে কত জ্বালিয়েছি,আমি আর হাসান আকবর রোকেয়া ভাবীর হাতের কত রান্না খেয়েছি,সবই আজ স্মৃতি। আজ সেই মহিয়সি ভাবীর ফোনে মাহফুজ ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদ শোনে অনেকটা কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়েছি। মাহফুজ ভাইয়ের জীবনে একটাই ভুল ছিল ভাবীকে যথাযথ মূল্যায়ণ করতে পারেনি,সন্মান দিতে পারেনি। তবুও ভাবী তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছেন শোনে মনটা আনন্দে ভরে গেলো।

আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে জান্নাত দান করুন।

আজ বাদ আছর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। মৃত্যুকালে  রেখে গেলেন স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে আর রেখে গেলেন এমন একটি শূন্যতা- যা কোনো ভাষায় পূরণ করার নয়।

মাহফুজ ভাই, আপনার চলে যাওয়া আমাদের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয় শুধু, এটি এ জনপদের সাংবাদিকতা জগতের এক বিশাল স্তম্ভ ভেঙে পড়ার মতো। কিন্তু আপনি রেখে গেছেন আপনার আদর্শ, আপনার নীতিমালা, আপনার সংগ্রামের ইতিহাস- যা আমাদের পথ দেখাবে যতদিন চলার পথ আছে।

আল্লাহ তাআলা আপনার সকল গুনাহ মাফ করুন, আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।

শোকাভিভূত পরিবারের প্রতি রইল গভীর সমবেদনা।

আপনি ছিলেন আমাদের আলোর মানুষ এখন আপনি আলো হয়েই রইলেন আমাদের স্মৃতিতে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও