ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি), চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উদ্যোগে রবিবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে (৬ষ্ঠ তলায়) “Understanding the actual water shortage in Bangladesh: Insights into Water Availability and the Way Forward ” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন এর সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী খান মো. আমিনুর রহমান এর সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয় (চুয়েট)’র সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. রিয়াজ আকতার মল্লিক।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে চুয়েটের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ফারুক উজ-জামান চৌধুরী ও বিশেষ অতিথি হিসেবে চুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রকৌশলী সুলতান মো. ফারুক উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ডীন ড. প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. রিয়াজ আকতার মল্লিক বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশের নদীসমূহ শুকিয়ে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থে পানির পরিমাণ নিচের স্তরে চলে যাচ্ছে। ভূপৃষ্টে পানির ঘাটতি দেখা দিচ্ছে বলে মতব্যক্ত করেন। দেশের নগরসমূহ, শিল্প ও কৃষিক্ষেত্রে অপরিহার্য উপদান হলো পানি। দেশের নদীগুলো সকল সৃষ্টিকে বেচে রাখে এবং নদীর পানি হতে নদীর দুপাশে বসবাসকারীসহ কৃষিক্ষেত্রে অধিকাংশ চাহিদা মেটায় বলে উল্লেখ করেন। দেশে বর্ষা মৌসুমে ৮৫ শতাংশ এবং শুস্ক মৌসুমে ১৫ শতাংশ পানি সরবরাহ হয়ে থাকে। তিনি আরো বলেন, দেশে পানির চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে, এক্ষেত্রে ভূপৃষ্টে পানির প্রবাহ, ভূগর্ভস্থ পানির পুনঃব্যবহার এবং আর্ন্তসীমান্ত নদী প্রবাহ সৃষ্টি করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। জাতীয় পর্যায়ে পানি সংরক্ষনে কৌশল তৈরী গবেষণার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ভবিষ্যতে পানির প্রাপ্যতা ও পানির সংকট নিরসনে নদী, খাল খনন এবং অকৃষি খাস জমিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে পানি সংরক্ষন করা হলে খরা মৌসুমে ৪০ শতাংশ ঘাটতি মেঠানো সম্ভব বলে মতব্যক্ত করেন। এছাড়াও তিনি ভবিষ্যত প্রজন্মকে পানি সংকট মোকাবেলায় ভূগর্ভস্থে পানি গবেষণার উপর বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ফারুক উজ-জামান চৌধুরী বলেন, শহরের পাশাপাশি গ্রাম অঞ্চলেও পুকুরসমূহ ভরাট করায় তা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। শহরে বহুতলা ভবনে পানি সংরক্ষন করা যাচ্ছেনা, নগরে খালসমূহ ভরাট করে ভবন নির্মিত হচ্ছে। তিনি ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য পানি সংরক্ষন, চাহিদা ও যোগান সমন্বয় বিষয়ে গবেষণার জন্য প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রের কেন্দ্রের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিভিন্ন উৎসের পানি নিয়মিত বঙ্গোপাসাগরে চলে যাচ্ছে -যা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তিনি দেশের প্রয়োজনীয় পানির উৎস তৈরী এবং পানির যোগান নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন গবেষণার উপর জোর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রকৌশলী কাজী আরশাদুল ইসলাম, প্রকৌশলী খান মো. আমিনুর রহমান, ড. প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক, প্রকৌশলী মো. নুরুল আলম, প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধকারকে পুষ্পস্তবক দিয়ে বরণ ও ক্রেস্ট উপহার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধতন প্রকৌশলী কর্মকর্তাবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য, কাউন্সিল সদস্যগণ, প্রকৌশলীবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৗশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

