রংপুর ডিভিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি- চট্টগ্রামের উদ্যোগে জলাতঙ্ক এবং তার প্রতিকার ও প্রতিষেধক শীর্ষক সেমিনার শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্টেডিয়াম শপিং কমপ্লেক্স, কাজীর দেউড়ী, চট্টগ্রাম সোসাইটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনাসভায় সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. কবিরুল ইসলাম খান এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রোটারিয়ান মো. শাহীন আলম সরকারের সঞ্চালনায় মূল আলোচক হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় এর অণুজীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. আব্দুল আহাদ।

স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান ও সহ-সভাপতি ডা. রওশন আরা বেগম শাপলা, পৃষ্ঠপোষক প্রকৌশলী কেএম মাহমুদুর হক।
মূল আলোচক অধ্যাপক ড. আব্দুল আহাদ বলেন, জলাতঙ্ক ভাইরাস জনিত একটি মারাক্তক রোগ। বেওয়ারিশ কুকুর, বাদুর, শিয়াল ও বেজির কামড়ে মুখের লালাদ্বারা মানুষসহ স্তন্যপায়ী প্রাণী আক্রান্ত হয়। ভাইরাসজনিত লালা শরীরের আক্রান্তস্থল হতে নার্ভ দিয়ে মস্তিক্তে পৌছিয়ে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়। ফলে একবার এর লক্ষণ প্রকাশ পেলে মৃত্যু অনিবার্য বলে মতব্যক্ত করেন। এছাড়াও এধরণের প্রাণীর কামড়ে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত কোনো প্রাণী মানুষসহ অন্য কোনো প্রাণীকে কামড় দিলে সেও আক্রান্ত হবে বলে উল্লেখ করেন। আক্রান্ত প্রাণী ঢোক গেলার ক্ষমতা কমে যায় পানি ও অন্যান্য খাবার খেতে পারেনা।
তিনি এ রোগের প্রতিকার ও প্রতিষেধক হিসেবে শিশুসহ সকলকে জলাতঙ্ক ভাইরাস বহনকারী প্রাণীর সংস্পর্শ হতে দূরে থাকা, কামড় দিলে ক্ষতস্থানে একটানা ১৫ মিনিট ধরে বাংলা বা কাপড় কাচার সাবান দিয়ে ধৌত করে ভাইরাস মুক্ত করা যায়। প্রাণীর কামড়ে রক্ত বের হলে পাঁচটি স্তরে- কামড়ের পরপরই, দ্বিতীয় দিন, তৃতীয় দিন, সপ্তম দিন এবং ২১তম দিনে পাঁচটি টিকা প্রদান করা হলে জলাতঙ্ক রোগ মুক্ত হওয়া যায় বলে উল্লেখ করেন। তিনি এ রোগের লক্ষণ, ক্ষতির মাত্রা, প্রতিকার ও প্রতিষেধক ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত পাওয়ার পয়েন্ট এর মধ্যে উপস্থাপন করেন।
সভার সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. কবিরুল ইসলাম খান বলেন, তিনি বাসা বাড়ী ও রাস্তাঘাটে এসকল প্রাণী হতে দূরে রাখতে শিশুদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখার উপর গুরুত্বারোপ করে । এছাড়াও তিনি অসহায় ও দুস্থ্য রোগিদের চিকিৎসাসেবা ও সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান,মো. মোতালেব হোসেন প্রামাণিক, ক্যাপ্টেন সাইদুল ইসলাম সাঈদ, অর্থ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আল আমিন ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল করিম, প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী কাজী এহসান বিন নাসিরপ্রকল্প ও এনজিও বিষয়ক সম্পাদক মো. মাসুদুর রহমান, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. সোলায়মান হোসেন, প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, প্রকৌশলী তুষার, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, সমাজ সেবা সম্পাদক তহসিন আলী, ক্রীড়া সম্পাদক দুলাল মিয়া, পাঠাগার সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য মো. লোকমান হাকিম ও অনিক।

