বিষাক্ত তেল ব্যবহার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল গোপন চিপস কারখানার সন্ধান মিলেছে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার ছদু চৌধুরী রোডে। চারপাশে মাকড়সার জাল, স্যাঁতসেঁতে দেয়াল, মেঝেতে ছড়ানো ময়লা-আবর্জনা। খোলা অবস্থায় ময়দা, চিপস তৈরির উপকরণ ছড়ানো, আরেক কোণে রাখা খোলা কড়াইয়ে কালচে নষ্ট তেল—যেটাতেই ভাজা হচ্ছিল শিশুদের প্রিয় চিপস! এমন দৃশ্য চোখে পড়তেই হতভম্ব হয়ে যান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিযানে গিয়ে এই ভয়ঙ্কর পরিবেশ দেখে তারা সঙ্গে সঙ্গে ‘বিসমিল্লাহ ফুড প্রোডাক্টস’ নামের বেকারি প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করে সাময়িকভাবে সিলগালা করেন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় চালানো হয় এই নিয়মিত বাজার তদারকি অভিযান।
উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, “শিশুদের জন্য যে চিপস তৈরি হচ্ছিল, তার পরিবেশ এতটাই নোংরা যে স্বাস্থ্যঝুঁকি ভয়াবহ। অনুমোদনহীন কেমিকেল, নষ্ট তেল ব্যবহার—এসব কোনোভাবেই সহনীয় নয়। জনস্বার্থে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া ছাড়া উপায় নেই।”
একই অভিযানে দেওয়ানহাট এলাকায় অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর ও বাসি গ্রিল মাছ-মাংস একই ফ্রিজে রাখার অভিযোগে ‘হোটেল সিটি আই’-কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই ধরনের অপরাধে ‘মুসলিম হোটেল’ ও ‘দরবার ভাতঘর’-কে ৬ হাজার টাকা করে মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া, ফারিয়া মেডিকেল নামের একটি প্রতিষ্ঠান মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে ৬ হাজার টাকা জরিমানা গুনেছে। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের অভিযানে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনায় ছিলেন উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ, সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান, মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ।
এ অভিযানের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে চিপস প্রতিদিন বাচ্চাদের হাতে তুলে দেই, সেটা যদি আবর্জনায় ভরা এমন কারখানায় তৈরি হয়-তাহলে কোথায় দাঁড়াবে তাদের স্বাস্থ্য?”


