ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি), চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উদ্যোগে বুধবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে ‘লিভিং উইথ কোভিড-১৯ (সেফটি, সায়েন্স এন্ড সোস্যাল রেসপনসিবিলিটি) এন্ড কার্ডিওভাসকুলার প্রসিডিউর ইন বাংলাদেশ’ বিষয়ে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম এর সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী খান মো. আমিনুর রহমান এর সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ. কে. এম. ফজলুল হক ও বিশেষ অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লি. বোর্ড অব ডিরেক্টর আমেনা শাহীন উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউট অব এ্যাপলাইড হেলথ সায়েন্স এর অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. জাবেদ এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লি. এর প্রধান কার্ডিয়াক সার্জন ডা. সরওয়ার কামাল। কেন্দ্রের ভাইস-চেয়ারম্যান (একা. এন্ড এইচআরডি) প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন ও ভাইস-চেয়ারম্যান (এডমিন. প্রফেশ. এন্ড এসডব্লিউ) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. জাবেদ বলেন, কোভিড-১৯ এর ভয়াবহতা এখন রিকভারি হয়েছে। তবে, এটি পুরোপুরি নির্মুল হবে না, বর্তমান সময়ে কোভিড আরো মারাত্মকভাবে বিশেষ আবির্ভাব হতে চলেছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি কিভাবে জীবন-যাপন করলে নতুন ভ্যারিয়েন্টের কোভিড সংক্রমন থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে সে ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেন। চলাচলের ক্ষেত্রে জনসমাগম স্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে কোভিড সংক্রমন হলে পরিবার ও সমাজের মধ্যে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে করণীয় বিষয়ে বিষদভাবে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। তিনি আরো বলেন, সচেতনতা এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জীবন-যাপন করলে কোভিড মোকাবেলা সহজ বলে মন্তব্য করেন।
সেমিনারে অপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ডা. সরওয়ার কামাল বলেন, হৃদরোগ হলো মারাত্মক প্রাণহারী রোগ। হৃদপিন্ড মানুষের শরীরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থান করে সমস্ত শরীরের রক্ত সঞ্চালনের কাজ করে যাচ্ছে। রক্ত সঞ্চালনের একাজ মুহুর্তের জন্যও বন্ধ হয়না। হৃদপিন্ডের কাজের ছন্দপতন হলে মানব শরীরে মারাত্মক ক্ষতি ও জীবননাশের ঝুঁকি সৃষ্টি হয় বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অসচেতনতার কারণে প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় দুই কোটি মানুষ এই রোগে মারা যায়। আল্লাহতায়ালা মাতৃগর্ভে ভ্রুণ থেকে সর্বপ্রথম হৃদপিন্ড সৃষ্টি করে পর্যায়ক্রমে মানব শিশু তৈরী করেন। মানুষ সচেতনভাবে তামাকমুক্ত, চর্বিমুক্ত ও তৈলাক্ত খাবার পরিহার করে সৃষ্টিকর্তার এই গুরুত্বপূর্ণ অন্যতম নিয়ামত রক্ষা করতে পারেন। বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসায় হার্টের রক্তনালীতে রিং পরানো এবং ওপেন হার্ট সার্জারির মাধ্যমে সুস্থ থাকা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, মানুষের হঠাৎ বুকে ব্যথা, ঘাড়ে ব্যথা, চোয়ালে ও পিঠের ব্যথা এবং বমির লক্ষন দেখা দিলে হার্টএ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। এজন্য সাথে সাথে করণীয় হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়া। তিনি হার্টএ্যাটাক প্রতিরোধ ও মুক্তির জন্য ধুমপান মুক্ত, দুঃচিন্তা পরিহার, চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার, ওজন ও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণসহ নিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপনের উপর জোর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এ. কে. এম. ফজলুল হক বলেন, হৃদরোগসহ অনেক জটিলরোগের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার লক্ষে আধুনিক সরঞ্জামসহ প্রযুক্তি নির্ভর পদ্ধতিতে চিকিৎসা বন্দর নগরী চট্টগ্রামের অনেক বেসরকারি হাসপাতালে শুরু হয়েছে।
ঢাকা ও অন্যান্য দেশে গিয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা না করে অত্যন্ত সাশ্রয় খরচে বর্তমানে চট্টগ্রামেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সার্জন দ্বারা বিশ্বমানের সকল চিকিৎসা ও অপারেশন করা সম্ভব।
এলক্ষে চট্টগ্রামের প্রাচীনতম হাসপাতাল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লি. বর্হিবিশ্বের ন্যায় বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করেছে, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ এবং সাশ্রয়ী ব্যয়ে মানবিক দৃষ্টি ভঙ্গিতে সর্বোত্তম চিকিৎসা সেবা ও হৃদযন্ত্রের বাইপাশ সার্জারীসহ সকল ধরনের অপারেশন চালু করেছে। এছাড়া তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে মহিলা ব্যবস্থাপনা ও মহিলা ডাক্তার দ্বারা পরিচালিত হাসপাতালের অপর ইউনিট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি চট্টগ্রামের ধনী-দরিদ্র আপামর জনসাধারণকে যেকোনো সময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের চিকিৎসা গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, মানুষের শারীরিক সুস্থতা আল্লাহ প্রদত্ত এক অশেষ নেয়ামত। তিনি পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, যথাযথ চেক আপ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে সুস্থ রাখা অতীব জরুরী বলে মত ব্যক্ত করেন। এছাড়াও তিনি স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও শরীর চর্চার মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রের ইআরসিতে প্রকৌশলী, প্রকৌশলী পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রকৌশলীদের প্রাথমিক চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি এসকল সুবিধা গ্রহণের জন্য প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান করেন।
প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রকৌশলী মো. নুরুল আলম, প্রকৌশলী তৌহিদুল আনোয়ার, প্রকৌশলী মো. এমাদুল হক, প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান, প্রকৌশলী ফসিউল ইসলাম, প্রকৌশলী অহিদুল আলম টিটু অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও মূল প্রবন্ধকারদ্বয়কে পুষ্পস্তবক দিয়ে বরণ ও ক্রেস্ট উপহার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী কর্মকর্তাবৃন্দ, কাউন্সিল সদস্যগণ এবং প্রকৌশলীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কেন্দ্রের প্রকৌশলীদের জন্য সর্বোচ্চ হ্রাসকৃত ফিতে চিকিৎসা সেবা ও হাসপাতাল সুবিধা বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের সাথে আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের এমওইউ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।


