রবিবার, ৩ মে ২০২৬

[the_ad id='15178']

জিইসি মোড়ের ফুটওভার-ব্রিজের নির্মাণকাজ শিগগির শুরু হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

জনদুর্ভোগ নিয়ে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের মাথাব্যথা খুব কমই দেখা যায়। বড় বড় প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তারা। কারণ সেখানে লাভ বেশি। জনভোগান্তি তাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় পথচারীরা রাস্তা পারাপারে দুর্ভোগ পোহালেও ফুটওভার-ব্রিজ নির্মাণের কোনো আলামত নেই। তবে জিইসি মোড়ের ফুটওভার-ব্রিজটির নির্মাণকাজ শিগগির শুরু হচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

- Advertisement -

চট্টগ্রাম শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় পথচারিরাই বেশি মারা যায় । রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন পথচারীরা।  ফুট ওভারব্রিজ থাকলে নিরাপদে সড়ক পার হতে পারত। ফলে নগরে ফুটওভার-ব্রিজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নগরের ১০টি মোড়ে সিএমপি থেকে সিটি কর্পোরেশন প্রশাসককে পদচারীসেতু নির্মাণের প্রস্তাব দেয়া হয়। মোড়গুলো হচ্ছে- নিউমার্কেট মোড়, বাদামতল মোড়, জিইসি মোড়, দেওয়ানহাট মোড়, টাইগারপাস মোড়, ইস্পাহানি মোড়, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, ওয়াসা মোড়, চৌমুহনী মোড় ও কর্নেলহাট মোড়। তবে অবস্থানগত কারণে জিইসি মোড় খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ।এখানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জনদাবী দীর্ঘদিনের। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি যেতে হলে যানবাহনগুলোকে জিইসি মোড় ব্যবহার করতে হয়। ব্যস্ত এই মোড়টিতে পথচারী পারাপারের জন্যে নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকায় জীবনঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হয় পথচারিদের।

- Advertisement -shukee

‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়কসমূহ উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন’- শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নগরের বিভিন্ন স্থানে ৩৮ টি ফুটওভার-ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ৫৮কোটি টাকা। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিইসি মোড়ে ৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ফুটওভার-ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করার কথা সাবেক সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর। তবে একটি মহলের বাধার কারণে এ সেতুর কাজ শুরু করা যায়নি।  জিইসি, ২ নম্বর গেট, শুলকবহর দুই ফ্লাইওভারের মাঝখানে, পুরাতন চান্দগাঁও থানা এলাকা, ইপিজেড, কাঠগড়সহ ১৮ মোড়ে ফুটওভার-ব্রিজ নির্মাণে ঠিকাদারও নিয়োগ করা হয়েছিল। জিইসি মোড় ফুটওভার-ব্রিজ নির্মাণকাজের সময়সীমা ধরা হয়েছিল গতবছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত।

নির্মাণনকশায় দেখা যায়, ফুট ওভারব্রিজটিতে ওঠানামার জন্য চারটি সিড়ি থাকবে। জিইসি কনভেনশন, জামান হোটেল, কামাল স্টোর ও সেন্ট্রাল প্লাজার সামনে থাকবে সিঁড়িগুলো। ফুটওভার-ব্রিজের প্রস্থ হবে ৩ দশমিক ৬ মিটার। ব্রিজটির মাঝখানে রাউন্ড করা হবে। সড়ক থেকে ফুট ওভারব্রিজটির উচ্চতা হবে ৬ দশমিক ৩ মিটার। তবে ফ্লাইওভার থেকে ১ দশমিক ২ মিটার নিচে থাকবে। ব্যবহারকারীরা সিঁড়ি দিয়ে মোড়ের যেকোনো প্রান্তে যেতে পারবেন।

চট্টগ্রাম শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোতে প্রতিদিন কয়েক লাখ মোটরযান ও রিকশা চলাচল করে। অসংখ্য যানবাহনের চাপে রাস্তা পার হতে নিদারুণ বেগ পেতে হয় পথচারীদের। অথচ নগরে বর্তমানে ফুট ওভারব্রিজ আছে মাত্র ৬টি। এর মধ্যে সর্বশেষ ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি চসিকের উদ্যোগে জাকির হোসেন রোডের ওয়ার্লেস মোড়ে স্কেলেটরসহ নির্মিত পদচারী সেতু উদ্বোধন করা হয়। কিছুদিন চালু থাকার পর এটি অচল হয়ে আছে। সন্ধ্যার পর সেখানে বসে মদ-গাজাসেবীদের আড্ডা। যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জসীম উদ্দিন  চাটগাঁর বাণীকে মুঠোফোনে বলেন, “জিইসি মোড় ফুটওভার-ব্রিজ নির্মাণকাজ শিগগির শুরু হবে।” জাকির হোসেন রোডের (চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতালের সামনে) অচল স্কেলেটরযুক্ত ফুটওভার-ব্রিজের প্রসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এ পথচারী সেতুকে সচল করতে গেলে আবার নতুন করে তা নির্মাণ করতে হবে। জিইসি মোড় ছাড়াও ২ নম্বর গেট, শুলকবহর দুই ফ্লাইওভারের মাঝখানে, পুরাতন চান্দগাঁও থানা এলাকা, বায়েজিদসহ ১২টি স্থানে ফুটওভার-ব্রিজ নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

উল্লেখ্য,মেয়র আসে মেয়র যায়,প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে যায় কিন্তু বাণিজ্যিক রাজধানী বন্দরশহর চট্টগ্রাম নগরের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয় না। গ্রিন ও ক্লিন সিটির সেই স্বপ্ন  তো সুদূরপরাহত। চট্টগ্রামের উন্নয়নে বিগত সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও এ মহানগরের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। জলাবদ্ধতা,পাহাড়কাটা, ফুটপাতবাণিজ্য ,বিশৃঙ্খল গণপরিবহনসহ নানান সমস্যায় হাবুডুবু খেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নগরবাসীর চোখে পড়ছে না। কাঙ্ক্ষিত সেই বাসযোগ্য নগর এখনো গড়ে ওঠেনি।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও