ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে এবার শুধু মশক নিধন নয়, তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার দেশব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কর্মসূচিতে গার্লস গাইড, স্কাউট, রোভার, বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, বিডি ক্লিনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে মাঠে নামানো হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রস্তুত স্বেচ্ছাসেবী দলগুলোকেও এ কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস বাস্তবায়ন উপলক্ষে আয়োজিত জরুরি মতবিনিময় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ডেঙ্গু পরিস্থিতির মানচিত্র পর্যালোচনা করে কোন জেলা ও এলাকায় এডিস মশার বিস্তার বেশি, তা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু সরকারের একার পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ কাজে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
এ জন্য স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবীরা মাঠে কাজ করবেন। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সারা বছর চলবে।
ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে স্যালাইন ও রোগ নির্ণয়ের টেস্ট কিট পর্যাপ্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়েও ডেঙ্গু চিকিৎসা জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব উপজেলাকে ‘রেড মার্কিং’ করা হয়েছে, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা বাড়ানো হবে। কোনো উপজেলায় পাঁচটি শয্যা থাকলে প্রয়োজন হলে তা ১০টিতে উন্নীত করা হতে পারে। এসব হাসপাতালে টেস্ট কিট, স্যালাইন, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত করা হবে।
পাঁচ অঞ্চলে বেশি ডেঙ্গু, পিরোজপুরে বিশেষ নজর
বর্তমানে দেশের সব অঞ্চলে সমানভাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ নেই জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চলে ডেঙ্গু রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে সিলেট, রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম। তবে সবচেয়ে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলায়। ওই এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে স্থানীয় পরিবেশের কিছু বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডাব ও সুপারি গাছ কাটার পর গোড়ায় পানি জমে থাকে। এই স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই বাড়ির আশপাশে এ ধরনের স্থান থাকলে দ্রুত তা পরিষ্কার বা ধ্বংস করতে হবে।
বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখুন
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, সরকার কাজ করবে, স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করবেন; কিন্তু প্রতিটি বাড়ির মানুষকে নিজেদের দায়িত্বটুকু পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, বাড়ির আশপাশ, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব কিংবা যেকোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা ফেলে দিতে হবে। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে কোথাও স্বচ্ছ পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। নাগরিক দায়িত্ব ও মানবিক বোধ থেকে সবাইকে এ প্রচারে এগিয়ে আসতে হবে।
সরকারি হাসপাতালে জায়গা না থাকলে বেসরকারিতে?
সরকারি হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিলে ডেঙ্গু রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সমন্বয়ে এ বিষয়ে একটি পাইলট কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় শয্যা বা চিকিৎসাসুবিধা না থাকলে নির্ধারিত কিছু বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সেখানে চিকিৎসা হলে ব্যয় সরকার বহন করবে কি না, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

