চট্টগ্রামে মঞ্চস্থ হয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী নৃত্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’। নারীর প্রচলিত রূপের বাইরে আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও ব্যক্তিত্বের শক্তিকে তুলে ধরা এই নৃত্যনাট্য দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করেছে অভ্যুদয় সংগীত অঙ্গন।
শুক্রবার(২৮ আগস্ট) নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে (টিআইসি) নৃত্যনাট্যটির দুটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। নৃত্যনাট্যের নির্দেশনা দেন সংগীতশিল্পী শ্রেয়সী রায়।

নৃত্যে অংশ নেয় নৃত্যরূপ একাডেমি। নৃত্য পরিচালনা করেন প্রিয়াংকা বড়ুয়া।
মণিপুরের রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা একই সঙ্গে একজন যোদ্ধা ও শাসকের উত্তরাধিকারী। তার চরিত্রে যেমন রয়েছে কোমলতা, তেমনি রয়েছে শক্তি ও দৃঢ়তা।
কিন্তু অর্জুনের কাছে আকর্ষণীয় হওয়ার আকাঙ্ক্ষা তাকে নিজের স্বাভাবিক সত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি করে। নিজের পরিচয় ও নারীত্বের দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় নৃত্যনাট্যের কাহিনি।
সন্ধ্যায় গান, নৃত্য ও কথামালায় ফুটিয়ে তোলা হয় চিত্রাঙ্গদার সেই আত্মঅন্বেষণের গল্প। অর্জুনের প্রেমে মোহিত হওয়ার পর চিত্রাঙ্গদার মধ্যে নারীত্বের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। তবে একপর্যায়ে তার প্রেম প্রত্যাখ্যাত হলে শুরু হয় বিরহ ও আত্মউপলব্ধির পর্ব।
মঞ্চে চিত্রাঙ্গদার আকুতিতে উঠে আসে, ‘অর্জুন, তুমি ফিরে এসো, ফিরে এসো, ক্ষমা দিয়ে করো না অসম্মান।’ বিরহের আবহে পরিবেশিত হয় ‘বধূ কোন আলো লাগল চোখে… বুঝি দীপ্তিরূপে ছিলে সূর্যালোকে’ গানটিও।
নৃত্যনাট্যের শেষাংশে চিত্রাঙ্গদার আত্মবিশ্বাস, সততা ও ব্যক্তিত্বের প্রতি মুগ্ধ হন অর্জুন। তখন চিত্রাঙ্গদাকে পূর্ণ মর্যাদায় গ্রহণ করেন তিনি। আত্মবিশ্বাসী চিত্রাঙ্গদার কণ্ঠে উচ্চারিত হয়, ‘আমি চিত্রাঙ্গদা, আমি রাজেন্দ্রনন্দিনী। নহি দেবী, নহি সামান্যা নারী।’
সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেন আদৃতা রুদ্র, প্রাচী সেন, উর্বশী, এলড্রিন ক্রাউলী, যীশু, শর্মিলা, ডালিয়া, পান্না, মুন্নী, বনি, প্রিয়ন্তী, ঐশী ও অমিতা। নৃত্য পরিবেশন করেন সুচনা বসাক, প্রিয়াংকা বড়ুয়া, অন্তর দে, অত্রি ভট্টাচার্য্য, ঐশী, জয়া, পুনম, সেঁজুতি, প্রাপ্তি, শান্তশ্রী, আরশি, শ্রীতমা, কথা, পূর্বা, তুশি, পুনম, পূর্ণতা, তারা, অত্রি, সম্প্রীতি ও সুপর্ণা।
পাঠ করেন অণির্বাণ ভট্টাচার্য ও অমিতা। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন রিপন শীল, শ্যামল দাশ, রিকি বসাক, নন্দন নন্দী, ফারুক, সানি দে ও ক্যউপ মারমা। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অভ্যুদয় সংগীত অঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক শৈবাল বড়ুয়া।
দুই দিনের অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে শনিবার রয়েছে ‘আনন্দধ্বনি জাগাও গগনে’ শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠান।

