রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

[the_ad id='15178']

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলির সিদ্ধান্ত নেবে স্থানীয় প্রশাসন: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষক বদলির সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয়ভাবে নয়, বরং উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গঠিত স্থানীয় প্রশাসনিক কমিটির মাধ্যমে নেয়া হবে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে বদলি প্রক্রিয়াকে ঘিরে থাকা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

- Advertisement -

রবিবার (১৪ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত ‘ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপ অন দ্য বাংলাদেশ এডুকেশন সেক্টর অ্যানালাইসিস (ইএসএ)’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

- Advertisement -shukee

তিনি বলেন, অতীতে শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একটি অসাধু চক্র গড়ে উঠেছিল এবং বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকার নতুন নীতিমালা গ্রহণ করেছে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম স্থানীয় পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হচ্ছে। এজন্য উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষকরা নির্ধারিত কমিটির কাছে আবেদন জমা দেবেন এবং সংশ্লিষ্ট কমিটি আবেদন যাচাই করে বদলির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

নতুন ব্যবস্থায় উপজেলা পর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। কমিটিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং অন্যান্য নির্ধারিত সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

এই কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার বৈঠকে বসবে। মাসজুড়ে জমা হওয়া বদলির আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নেবে কোন আবেদন অনুমোদন করা হবে এবং কোনটি হবে না।

একই ধরনের কাঠামো জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের তত্ত্বাবধানে কমিটি কাজ করবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, তিন স্তরের এই প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে বদলি সংক্রান্ত সব আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর সুযোগও অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যাবে।

এতদিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসরণ করা হতো। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আবেদন আহ্বান করত এবং পর্যায়ক্রমে উপজেলা, জেলা ও বিভাগভিত্তিক বদলির আবেদন গ্রহণ করা হতো।

অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তা যাচাই করে জেলা পর্যায়ে পাঠাতেন। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে আবেদনগুলো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পৌঁছাত। সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হলে বদলি কার্যকর হতো।

দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষক বদলি ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং হয়রানির অভিযোগ উঠে আসছিল। অনেক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, বদলির আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি কিংবা পছন্দের স্থানে বদলির জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে অনৈতিক সুবিধা দাবি করা হতো।

এছাড়া জনস্বার্থে বদলির নামে প্রভাব খাটানো এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও ছিল। ফলে বহু শিক্ষক কাঙ্ক্ষিত বদলি পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হতেন এবং নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতেন।

সরকারের নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বদলি প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করা। স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়ার ফলে আবেদন নিষ্পত্তির সময় কমবে এবং শিক্ষকদের অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাঁপও হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এছাড়া ইউনিসেফের কান্ট্রি ডিরেক্টর, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও