সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

 আসন্ন বাজেটে ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো খড়গ নামবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য করের আওতা বাড়ানো অপরিহার্য। তবে আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশের ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো খড়গ নামবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

- Advertisement -

আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা ২০২৬–২৭: বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), দৈনিক সমকাল ও চ্যানেল ২৪ যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।

- Advertisement -shukee

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব শৃঙ্খলা আনতে আমাদের করের আওতা বাড়ানো দরকার। তবে ব্যক্তির ওপর করের চাপ বাড়ানো নয়, বরং করের আওতা (ট্যাক্স বেস) বাড়ানোই সরকারের লক্ষ্য। আশা প্রকাশ করে তিনি জানান, আসন্ন বাজেট ও পরবর্তী সময়ে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে। এ ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সক্ষমতার ওপর তার আস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমার সিনিয়র সহকর্মী অর্থমন্ত্রীর ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। তিনি ব্যবসাবান্ধব ব্যক্তি। তিনি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বোঝেন। এই মৌলিক বিষয়টি না বোঝার কোনো কারণ নেই। আমি বেসরকারি খাতকে বলব- আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। আমরা একসঙ্গে কাজ করব এবং দেশকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাব।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হলে প্রথমেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে হবে। অতীতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ঘাটতির কারণে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব এখনও বিদ্যমান। সরকার ও অর্থনীতির অন্যান্য অংশীজনদের মধ্যে সংযোগ ও স্বচ্ছতা না থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মূল বিষয়। কিন্তু অতীতে এমন অনেক প্রকল্প নেয়া হয়েছে, যেগুলোর বাস্তব ভিত্তি বা যৌক্তিকতা ছিল না। এতে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। মনিটরিং ও মূল্যায়ন বিভাগের পর্যালোচনায়ও অনেক প্রকল্পে দুর্নীতি ও অদক্ষতার চিত্র উঠে এসেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই করা সম্ভব নয়। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সহজ ব্যবসা প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা জরুরি। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই লাইসেন্স ও নিবন্ধন সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট আইআরসি ও ইআরসি সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে। এখন থেকে অনলাইনে আবেদন, ফি পরিশোধ ও সনদ ডাউনলোড করা যাবে। ফলে সময় ও ভোগান্তি কমবে।

জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে বাড়তি চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবুও শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সরকারি মালিকানাধীন অকার্যকর শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বিশেষ করে লোকসানি চিনিকলগুলোতে নতুন বিনিয়োগ আনা এবং বিকল্প পদ্ধতিতে পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যাতে উৎপাদন বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়।

অনুষ্ঠানে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয় ডিসিসিআই। এছাড়া তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করহার তালিকাভুক্ত কোম্পানির মতো ২৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় করপোরেট কর রিটার্ন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী বলেন, অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত। সরকার ও বেসসরকারি খাতের মধ্যে আরও বেশি সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য মনজুর হোসেন, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ ও রিজওয়ান রাহমান, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)-এর সভাপতি মো. কাওসার আলম, আইসিএবি সভাপতি এন কে এ মবিন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চেয়ারম্যান শরীফ জহীর প্রমুখ।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও