২০২৬: ২০২৫ সালের সমাপ্ত বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি.
রবিবার (০৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ব্যাংকের বোর্ড সভায় কোম্পানির বার্ষিক নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করে বোর্ড অব ডিরেক্টরস। সভায় ২০২৫ সালের সমাপ্ত বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার সুপারিশ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। এই লভ্যাংশ ঘোষণার মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংক টেকসই ও শক্তিশালী আর্থিক অবস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে- যা ব্যাংকের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।

২০২৫ সালের সমাপ্ত বছরে ব্যাংকের নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪ শতাংশ। এ সময়ে নিট মুনাফা হয়েছে ৯১০ কোটি টাকা-যা গত বছরের (২০২৪) একই সময়ে ছিল ৭৩২ কোটি টাকা। ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭.৮৪ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬.৩১ টাকা।
বছর শেষে ব্যাংকের শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) এবং শেয়ার প্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৪০.০০ টাকা এবং ৫৮.০৭ টাকা।
ডিসেম্বর, ২০২৫-এ সমাপ্ত বছরে ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৪,৮৯০ কোটি টাকা। প্রাইম ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিআরএআর) দাঁড়িয়েছে ১৮.০৭ শতাংশ, যা ব্যাংকিং খাতের সর্বোচ্চর মধ্যে।
সভায় ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২১ মে, ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করা হয় এবং রেকর্ড ডেট ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাইম ব্যাংক পিএলসি সর্বদা উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সল্যুশন ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে কনজিউমার ঋণ দিচ্ছে প্রাইম ব্যাংক
বাংলাদেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে কনজিউমার ঋণ বিতরণ করার মাইলফলক অর্জন করেছে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি- যা দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা খাতে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নির্দেশনা পাওয়ার পর, ব্যাংকটি পরবর্তী দিন সকালে প্রথম ঋণ বিতরণ সম্পন্ন করে, যা ব্যাংকটির অপারেশনাল দক্ষতা এবং সমন্বিত কার্যক্রমের উদাহরণ।
এই নতুন পণ্যটি গ্রাহকদের ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে ঋণ নেয়ার সুযোগ প্রদান করবে, যার মাধ্যমে তারা তাদের বিনিয়োগ বিক্রি না করেই তহবিল অর্জন করতে পারেন। গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে আধুনিক আর্থিক সমাধান প্রদানে এই উদ্যোগ প্রাইম ব্যাংকের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
ব্যাংকের গুলশান শাখা, ক্রেডিট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিভিশন (সিএডি), ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট (সিআরএম) এবং ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে ঋণ অনুমোদন এবং বিতরণ প্রক্রিয়া দ্রুত ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
প্রাইম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) এম. নাজিম এ. চৌধুরী বলেন, “এই অর্জন নিয়ন্ত্রক সংস্থার ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে থেকে গ্রাহকদের নতুন নতুন আর্থিক সমাধান প্রদানে প্রাইম ব্যাংকের উদ্ভাবনী সক্ষমতার প্রতিফলন। আমরা গ্রাহকদের জন্য প্রতিনিয়ত উন্নত আর্থিক সেবা চালু করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা তাদের জীবনকে করবে সহজ, সহনশীল ও দক্ষ।’
এই ঐতিহাসিক অর্জনের মাধ্যমে অগ্রসারমান আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রাইম ব্যাংক তার উদ্ভাবনী সক্ষমতা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকিং খাতের আধুনিকীকরণের পথে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছে।

