শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

[the_ad id='15178']

সীতাকুণ্ড ও সাতকানিয়ায় একদিন আগেই ঈদ উদ্‌যাপিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও সাতকানিয়ায়  কয়েকটি গ্রামে ঈদ উদযাপিত হয়েছে। উপজেলার দুটি গ্রামে আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদ উদযাপন করেছে গ্রামবাসী। সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে প্রতিবছর এ গ্রাম দুটিতে ঈদ উদযাপন হয়ে আসছে দীর্ঘকাল ধরে।

- Advertisement -

পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা গ্রামগুলো হলো সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ও বাড়বকুণ্ড এলাকার চারিয়াকান্দি গ্রাম।

- Advertisement -shukee

জানতে চাইলে ঈদ উদযাপনকারী বাঁশবাড়িয়ার বাসিন্দা আবুল বশর বলেন, প্রায় দুই শতাধিক বছরের অধিক সময় ধরে চট্টগ্রামের মির্জারখীল দরবার শরীফের মুরিদরা সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রোজা পালন করেন। তেমনিভাবে ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে অন্যান্য বছরের মতো এবারও একদিন আগে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ও বাড়বকুণ্ড এলাকার চারিয়াকান্দি গ্রামের মানুষ। নির্দিষ্ট মতবাদের অনুসারী এসব গ্রামের বাসিন্দারা সকালে নিজ নিজ মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করে উৎসবে মেতে উঠেছেন।

তিনি আরো বলেন, প্রায় দু’শ বছর আগে তৎকালীন পীর মাওলানা মুখলেছুর রহমান (রহঃ) পৃথিবীর অন্য যেকোনো দেশে চাঁদ দেখা গেলেই রোজা, ঈদ এবং কোরবানী পালনের নিয়ম প্রবর্তন করেন। এরপর থেকে সারাদেশে মির্জাখীল

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার (২০ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করেছেন। এদিন সকাল ১০টায় দরবার শরীফ মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

দরবার সূত্র জানায়, অনুসারীরা একদিন আগে থেকেই রোজা পালন শুরু করেছিলেন। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ৩০ রমজান পূর্ণ করে শুক্রবার ঈদের নামাজ আদায় করেন তারা।

ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন হজরত ইমামুল আরেফীন ড. মৌলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান। জামাতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।

দরবার শরীফের অনুসারীরা জানান, তারা হানাফি মাজহাব অনুযায়ী বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ও অন্যান্য চন্দ্র মাসভিত্তিক ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন।

সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ায় ঈদের জামাত

দরবার সূত্রে আরও জানা যায়, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, আনোয়ারা, লোহাগাড়া, সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি দেশের নানা জেলা—যেমন ঢাকা, কুমিল্লা, ফেনী, রাঙামাটি, সিলেট, বরিশালের শতাধিক গ্রামের অনুসারীরাও একইভাবে ঈদ উদ্‌যাপন করেছেন।

এছাড়া পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যাংছড়ি এবং কক্সবাজার-এর চকরিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াতেও দরবার শরীফের অনুসারীরা শুক্রবার ঈদের নামাজ আদায় করেন।

ঈদ উদ্‌যাপন প্রসঙ্গে দরবার শরীফের প্রতিনিধি মোহাম্মদ মছউদুর রহমান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চাঁদ দেখার তথ্য, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব এবং মক্কা-মদিনার চাঁদ দেখার খবর বিবেচনায় রেখে তারা এই সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে আসছেন।

 

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও