মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

মশা নিয়ন্ত্রণে ৪১ ওয়ার্ডে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালাবে চসিক: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীতে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ৪১টি ওয়ার্ডে বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। সোমবার নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মশার ওষুধ ছিটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চসিকের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

- Advertisement -

উদ্বোধনকালে মেয়র জানান, নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে সমন্বিতভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ করেই মশার বিস্তার বৃদ্ধি পায়। নগরবাসী যাতে মশার উপদ্রবের কারণে দুর্ভোগে না পড়ে, সে জন্য এই ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

- Advertisement -shukee

মেয়র আরও জানান, কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত ফগিং কার্যক্রমের পাশাপাশি লার্ভিসাইড ছিটানো, নালা-নর্দমা পরিষ্কার, আবর্জনা অপসারণ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একযোগে এই কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

নির্মাণাধীন ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় জমে থাকা পানিতে মশার প্রাদুর্ভাব রোধে মেয়র বলেন, কোথাও যদি অবহেলার কারণে পানি জমে মশার বিস্তার ঘটে, তবে প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট ভবন মালিক, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং নিয়মিত পানি অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে চসিক আমেরিকান প্রযুক্তির লার্ভিসাইড বিটিআই (Bacillus thuringiensis israelensis) ব্যবহার করছে। মেয়র জানান, এই প্রযুক্তি মশার লার্ভা ধ্বংসে অত্যন্ত কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে নগরে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হবে। নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, মশা নিয়ন্ত্রণে কেবল সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পানির পাত্র বা আশপাশের কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সে দিকে নজর দিতে হবে। নাগরিকদের সম্মিলিত সহযোগিতা থাকলে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মেয়রের একান্ত সহকারী জিয়াউর রহমান জিয়া, মারুফুল হক চৌধুরী (মারুফ) সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও