চট্টগ্রাম: নগরীর টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘবে জলাবদ্ধতা নিরসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে যার ফলে ইতোমধ্যে নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
শুক্রবার বিকেলে দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় ‘ন্যায়ের শপথ সমাজ কল্যাণ পরিষদ’ আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মহল্লা কমিটির সভাপতি মো. অহিদ উল্ল্যাহ (ময়না)-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় ডা. ফজলুল হাজেরা কলেজ রোড ও প্রাণহরি দাশ রোড এলাকার বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা অংশগ্রহণ করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে চলমান জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগের বিষয়টি মেয়রের কাছে তুলে ধরেন।
স্থানীয়দের বক্তব্য শুনে মেয়র বলেন, নগরবাসীর কষ্ট লাঘব করাই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান দায়িত্ব। জলাবদ্ধতা এখন চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় নগর সমস্যা। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর ইতোমধ্যে সবগুলো সংস্থার সহযোগিতায় জলাবদ্ধতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নির্মূলে স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। এজন্য স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের সাথে আমরা যোগাযোগ করছি। জলাবদ্ধতার সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে প্রকল্প গ্রহণ করবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এলাকাবাসী কলেজ রোড ও প্রাণহরি দাশ রোডের যে সব সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন সেগুলো চসিকের প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে পর্যালোচনা করে দ্রুত সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে খণ্ডিত উদ্যোগ নয়, সমন্বিত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন প্রয়োজন। খাল খনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ড্রেন পুনর্নির্মাণ ও রেগুলার রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
মেয়র আরও বলেন, উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হবে, যাতে একই এলাকায় বারবার খোঁড়াখুঁড়ি বা কাজের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়া জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
ইফতারের পূর্ববর্তী আলোচনায় মেয়র রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও সহমর্মিতার মাস। এই মাস আমাদের ন্যায়, সততা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে। সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়; একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সহযোগিতাপূর্ণ সমাজ গঠনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক সংগঠনগুলো যদি জনসচেতনতা ও মানবকল্যাণমূলক কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখে, তবে নগর উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
অনুষ্ঠানে আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাদের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, এলাকাবাসীর কল্যাণে তাদের জনসেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

