বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জনমতে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা

রাত পোহালেই সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্নস্থানে কেন্দ্র দখল করে জোরপূর্বক ব্যালট পেপারে সিল মারা, প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা বহিস্কার, আটক , গোলাগুলির ঘটনাসহ নানা কারচুপি, ভয়ভীতি ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে বহুল আলোচিত ‘জুলাই গণ-সনদ’ সংস্কারের ওপর গণভোট।

- Advertisement -

ভোট শুরুর আগে বুধবার বিকেল থেকে দেশের বিভিন্নস্থানে কেন্দ্র দখল ও আধিপত্য বিস্তারের মহড়া শুরু হয়েছে। কোনো কোনো  কেন্দ্রে আইনশৃংখলা বাহিনীকে ম্যানেজ করে  ব্যালেট পেপারে সিল মারতে গিয়ে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা বহিস্কার ও আটকের ঘটনা ঘটেছে ,  চট্টগ্রামের রাউজানসহ বিভিন্ন স্থানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে জনমতে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা শুরু হয়েছে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে।

- Advertisement -shukee

ইতোমধ্যে কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনি সামগ্রী পৌঁছানোসহ সবধরনরে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এক ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে প্রথমবারের মতো একই দিনে ব্যালটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে-বিপক্ষে রায় দেবেন ভোটাররা।

দীর্ঘদিন পর একটি মুক্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়ে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ছেড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ নাড়ির টানে গ্রামে গেছেন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) আশা করছে, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ হতে পারে। তবে উৎসবের আমেজ থাকলেও কিছু কিছু এলাকায় সহিংসতার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না ইসি। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ১৯ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

দুটি ভোট একই দিনে হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় এবার এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা ব্যালট এবং গণভোটের জন্য গোলাপী ব্যালট ব্যবহার করা হবে। সারা দেশে ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকছেন, যারা নির্বাচনি অপরাধের জন্য তাৎক্ষণিক সাজা দেয়ার ক্ষমতা পাবেন। এছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার প্রথমবারের মতো ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ৯৫ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নির্বাচনে নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে। ২৯৯টি আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। ফলে মূল লড়াইটা সীমাবদ্ধ থাকছে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। বিএনপি ২৯১টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছে। অন্যদিকে জামায়াত জোটের শরিকদের নিয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন ২২৮ জন, পাশাপাশি জোটের শরিক এনসিপি, এবি পার্টি এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

রাজধানীর আসনগুলোর দিকে নজর সবার। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিপরীতে লড়ছেন জামায়াতের স. ম. খালিদুজ্জামান। অন্যদিকে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বিএনপির শফিকুল ইসলাম খানের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। হেভিওয়েট প্রার্থীদের এই লড়াইকে কেন্দ্র করে ঢাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে বস্তি এবং মেস এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, নির্বাচনি পরিবেশ এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক। তবে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান ও সম্ভাব্য সহিংসতা নিয়ে ইসি সতর্ক রয়েছে। তিনি জানান, গত কয়েক দিনে সারা দেশ থেকে ৮৫০টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যা নাশকতার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো কেন্দ্রে সহিংসতা হলে সাময়িকভাবে ভোট বন্ধ রাখা হবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আবার শুরু করা হবে। যদি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হয়, তবে সেই কেন্দ্রের ভোট বাতিল করা হবে।

 

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও