সোমবার, ৪ মে ২০২৬

[the_ad id='15178']

হকার্স সমস্যা সমাধানে অ্যান্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট গড়ে তোলা হবেঃ চসিক মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের হকার্স সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অ্যান্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ফুটপাত দখল করে হকার ব্যবসা পরিচালনার ফলে নগরে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। এই সমস্যা নিরসনে পরিকল্পিতভাবে অ্যান্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট স্থাপন করা হবে।

- Advertisement -

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সিটি লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটি (সিএলসিসি) সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।

- Advertisement -shukee

এ সময় কমিটির সদস্যবৃন্দ বলেন, নগরীতে মশা বাড়ছে। এজন্য নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একই দিনে সমন্বিতভাবে ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা যেতে পারে। মেয়র এ প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে বলেন, এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ কার্যকর হলে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।

সদস্যবৃন্দ সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে হকার ব্যবসা পরিচালনার কারণে সৃষ্ট যানজট ও জনদুর্ভোগ নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান। তারা নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে সাফল্য পাওয়ায় মেয়রকে ধন্যবাদ জানিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর দেন।

সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর যানজটের অন্যতম কারণ হকার ব্যবসা। হকারদের কারণে একদিকে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে জনভোগান্তিও বাড়ছে। এ সমস্যা সমাধানে এর আগেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে এখন দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধানের দিকে এগোনো হচ্ছে।

“বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যান্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট ব্যবস্থা নগরীর যানজট ও হকার সমস্যার কার্যকর সমাধান দিয়েছে। চট্টগ্রামেও এই মডেল বাস্তবায়নের চিন্তা করা হচ্ছে।  হকার সমস্যা সমাধানে নগরের গুরুত্বপূর্ণ চারটি পয়েন্টে অ্যান্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট গড়ে তোলার বিষয়ে চায়না’র একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। ইপিজেড, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট ও স্টেশন রোড এলাকায় এ ধরনের মার্কেট নির্মাণ করা যেতে পারে। এছাড়া, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের পাশে খালি জায়গায় হকারদের জন্য ভূমি বরাদ্দের চেষ্টা চলছে।

সভায় মেয়র ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ প্রসঙ্গে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রথমবারের মতো মশা নিয়ন্ত্রণে আমেরিকান প্রযুক্তির লার্ভিসাইড বিটিআই (Bacillus thuringiensis israelensis)   ব্যবহার করছে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ফগিং, লার্ভিসাইড ছিটানো, নালা–নর্দমা পরিষ্কার, আবর্জনা অপসারণ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। আমেরিকান প্রযুক্তির বিটিআই ব্যবহারে মশার লার্ভা ধ্বংসে বেশ কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পর্কে  মেয়র বলেন, নগরীর ৪১ টি ওয়ার্ডে প্রতিটি ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যার ফলে দৈনিক বর্জ্য সংগ্রহ ৫০০ টন বৃদ্ধি পেয়েছে। আপাতত প্রতিটি বাসা থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। তবে, এই সেবাটিকে বিনামূল্যে নাগরিকদের দেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কারো বাসা থেকে ৭০ টাকার বেশি নিলে আমাদেরকে জানাবেন, আমরা তাদের কার্যাদেশ বাতিল করে দেব। এছাড়া, চসিকের দুুটি বর্জ্যাগারে জমা বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস, গ্রীন ফুয়েল, জ্বালানী  উতপাদন করে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছি। এই উৎপাদিত বর্জ্য হতে চসিকের একটি আয় বাড়বে। শহর ক্লিন রাখতে হলে শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহ করতে হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সিএলসিস’র সদস্য প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এস এম নছরুল কদির,  সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মো. খান, মো. তৈয়ব, প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, বাসসের ব্যুরো প্রধান মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, কানিজ কাউসার চৌধুরী, মেয়রের উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ, এম আর মনজু প্রমুখ।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও