চট্টগ্রাম নগরের শিক্ষা,স্বাস্থ্য, জলাবদ্ধতা, খাল খনন ও সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা.শাহাদাত হোসেন বলেন, “নগরের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার আন্তরিকতা থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকার থেকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায় না বলেই নগরবাসীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। আসল কথা হচ্ছে, সিটি গভর্মেন্ট ছাড়া পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা কখনোই সম্ভব নয়।”
গতকাল (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যারাতে চিটাগং ক্লাবের ব্যাঙ্কোয়েট হলে আয়োজিত রোটারি ক্লাব অব গ্রেটার চিটাগং এর ১২তম অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ছাত্রাবস্থায় আমিও রোটারেক্টর ছিলাম। রোটারির প্রতি আমার দুর্বলতা রয়েছে। সিটি কর্পোরেশন আর রোটারির কাজের মধ্যে মূলত কোনো পার্থক্য নেই। আমরা সবাই জনসেবামূলক কাজ করছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সিটি মেয়র বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মকে নীতি-নৈতিকতার অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে খেলাধূলার কোনো বিকল্প নেই। তাই আমি নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি সবুজ খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে ১১টি খেলার মাঠ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে,বাকি ৩০টি মাঠও নির্মাণপ্রক্রিয়ায় আছে। এছাড়া মেয়র নগরবাসীকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে আন্তর্জাতিকমানের হাসপাতাল নির্মাণ,নারীদের জরায়ূ, ব্রেস্ট ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, ডায়ালেসিস সেন্টার নির্মাণসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক উদ্যোগের কথা জানান। তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বরেই “আমাদের চট্টগ্রাম” নামে একটি অ্যাপ চালু করতে যাচ্ছি, যেখানে নগরবাসী তাদের সমস্যার কথা আপলোড করতে পারবে এবং আমরা সেসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারবো।

প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান রোটারিয়ান মিজানুর রহমান আপনের সভাপতিত্বে ও রোটারিয়ান পিপি এমদাদুল আজিজ চৌধুরীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর পিডিজি প্রফেসর ড.মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী বলেন, “ প্রকৃত রোটারিয়ান হতে হলে রোটারি সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা থাকতে হবে;রোটারিকে মনেপ্রাণে ভালোবাসতে হবে। রোটারি সেবায় নিয়োজিত হতে হলে চিত্ত ও বিত্ত দুটোই প্রয়োজন।

রোটারিয়ান আহমেদ ইসমাইলের কোরআন তেলোয়াত, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও রোটারিয়ান আবদুল্লাহ আল মামুনের রোটারি প্রত্যয় পাঠের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে রোটারি ক্লাব অব গ্রেটার চিটাগংয়ের মানবিক বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পিডিজি ইঞ্জিনিয়ার আবদুল আহাদ, পিপি রোটারিয়ান ডা.মইনুল ইসলাম মাহমুদ,পিপি রোটারিয়ান এস এস এম কেরামুতুল আজিম পিন্টু, পিডিএফএল ফারজানা হক রুপসা, রোটারিয়ান সাংবাদিক ওসমান গণি মুনসুর,পিপি রোটারিয়ান ক্যাপ্টেন ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম, পিপি রোটারিয়ান মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ চৌধুরী, পিপি রোটারিয়ান হারুণ অর রশিদ, পিপি রোটারিয়ান সাংবাদিক মোহাম্মদ ইউসুফ, পিপি রোটারিয়ান আফতাব উদ্দিন সিদ্দিকী,পিপি রোটারিয়ান লিয়াকত আলী চৌধুরী, পিপি রোটারিয়ান রেজাউল করিম চৌধুরী, পিপি রোটারিয়ান ডা. এম এ করিম, সিপি রোটারিয়ান জাহেদা আক্তার মিতা, পিপি রোটারিয়ান ফেরদৌস আরা বেগম, পিপি রোটারিয়ান মুনিরুজ্জামান,সিপি রোটারিয়ান মোহাম্মদ ওমর আলী ফয়সাল, পিপি রোটারিয়ান আজিজুল বারী চৌধুরী জিন্নাহ, পিপি রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার খায়রুল মোস্তফা, পিপি রোটারিয়ান সাইফুল হুদা সিদ্দিকী, সিপি রোটারিয়ান এম এরশাদ চৌধুরী, সিপি রোটারিয়ান মোহাম্মদ আলমগীর, পিপি রোটারিয়ান মো. জামাল উদ্দিন সিকদার,ক্লাব প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান সৈয়দা কামরুন নাহার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান রোটারিয়ান মিজানুর রহমান আপন। সাচিবিক প্রতিবেদন পেশ করেন সদ্য বিদায়ী সেক্রেটারি প্রফেসর ড.আয়েশা আফরিন।সাচিবিক ঘোষণা দেন ক্লাব সেক্রেটারি রোটারিয়ান সৈয়দা সেলিনা সরওয়ার। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট রোটারিয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
ফেলোশিপ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ডিনারের মাধ্যমে অভিষেক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।


