ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি), চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উদ্যোগে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে (৬ষ্ঠ তলা) “Indoor Air Quality status and mitigation strategies with use of photocatalysis শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম এর সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী খান মো. আমিনুর রহমান এর সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (পূর্বাঞ্চল) প্রকৌশলী মো. সুবক্তগীণ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধকার উপস্থাপন করেন নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অফ আগদার (ইউআইএ), রিনিউয়্যাবল এনার্জি সেকশন, ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তোরে বেহাস।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী (পূর্ব) প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, প্রধান সংকেত এবং টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (পূর্ব) প্রকৌশলী সৈয়দ মো. শাহিদুজ্জামান, চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ শফিকুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক (নির্মাণ ও সেতু) প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম চৌধুরী, মাওলানা ভাসানি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী ইকবাল মাহমুদ ও নরওয়ের আগদার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুমন রুদ্র উপস্থিত ছিলেন।
আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ভাইস-চেয়ারম্যান (একা. এন্ড এইচআরডি) প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বাগত বক্তব্য ও ভাইস-চেয়ারম্যান (এডমিন. প্রফেশ. এন্ড এসডব্লিউ) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম উক্ত সেমিনারে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

মূল প্রবন্ধকার অধ্যাপক ড. তোরে বেহাস বলেন, বিশ্বব্যাপী ফটো ক্যাটালাইসিস পদ্ধতির ব্যবহার, গৃহ অভ্যন্তরীণ বিশেষ করে রান্নাঘরে উৎপন্ন, বায়ুর মানোন্নয়নের একটি আধুনিক, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব, কার্যকর ও টেকসই প্রযুক্তি। এ পদ্ধতিতে মাইক্রোব, ক্ষতিকর গন্ধ এবং অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে ভেঙ্গে বিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে। বহুতল ভবন, বসত ঘর, অফিস এবং হাসপাতালের বায়ুমান উন্নতির জন্য এটি একটি কার্যকর প্রশমন কৌশল হিসেবে আধুনিক বিশ্বে বিবেচিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, এ প্রক্রিয়া সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় দূষণকারী উপাদানগুলোকে নিরাপদ পদার্থে রূপান্তরিত করে। ঘরের ভেতরে বায়ু দূষণকারী ফরমালডিহাইড, টলুইন, বেনজিন, ক্ষতিকর গন্ধ, ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস এগুলো স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরী করে। ফলে এতে এলার্জি, মাথা ব্যাথা, শাসকষ্ট রোগের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ উদ্বায়ী জৈব যৌগ VOC বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের বিষয় যার ঘনত্ব প্রায়শই বাইরের স্তরকে ছাড়িয়ে যায় এবং মানুষের সংস্পর্শে ক্ষতিকর মাত্রা দ্রুততর হয়। মূল প্রবন্ধকার বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ বায়ুর মানোন্নয়নের বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশল পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন।
প্রধান অতিথি প্রকৌশলী মো. সুবক্তগীণ বলেন, বাসায় এবং কর্মস্থলে পরিবেশ নিরাপদ থাকলে সকলে সুস্থ থাকবে এবং কর্মস্পৃহা বাড়বে। তিনি বর্হিবিশ্বের ন্যায় এদেশে যুগোপযোগী নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ এবং অভ্যন্তরীণ বায়ুর মানোন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন যাতে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাসযোগ্য স্বদেশ নির্মাণ করা সম্ভব হয়। তিনি সকল উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদনে যথাযথ প্রযুক্তির ব্যবহার, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অন্যতম চালিকা শক্তি হিসেবে প্রকৌশলী সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম হতে কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণে ইউরোপিয়ান প্রযুক্তি ব্যবহার, কম্পিউটার বেজড সিগন্যাল সিস্টেম সংযোজন করা হয়েছে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেলওয়ের কার্যক্রমকে উন্নত, গতিশীল ও পরিবেশবান্ধব করার প্রয়াস চলছে। তিনি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রোডে পরিবেশ রক্ষায় সাড়ে সাত লক্ষ গাছ রোপণ, বন্যপ্রাণী পারাপারের জন্য আন্ডার পাস-ওভারপাস তৈরী ও লাইনের দুপাশে হাতি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করাসহ কালুরঘাট রেল ব্রিজের দুপাশে যাতায়াতের জন্য ওভারপাস টুওয়ে রাস্তা নির্মাণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এছাড়াও তিনি অদূর ভবিষ্যত চট্টগ্রাম হতে ঢাকা বুলেট ট্রেন চালুর পরিকল্পনার বিষয় উল্লেখ করেন। এছাড়াও ঢাকা হতে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ড লাইন করা হবে যাতে ঢাকা হতে চট্টগ্রামের নির্ধারিত দুরত্ব হতে ৯০ কিলোমিটার কমে আসবে এবং ৩ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়া আসা করা যাবে। তিনি রেলওয়ের মানোন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণ ও গুণগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকৌশলীগণ নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে বলে মত ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্র শিক্ষার উন্নয়ন ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অনবদ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তিনি গবেষণামূলক ও প্রযু্ক্তির উন্নয়নে নরওয়েসহ আধুনিক বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের মধ্যে সেতুবন্ধনের উপর মত ব্যক্ত করেন। তিনি প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং ব্যবহারিক কর্মকাণ্ডে প্রকৌশলীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে উল্লেখ করেন। এছাড়াও তিনি লিডারশীপ তৈরীতে সকল হিংসা বিদ্বেষ মুক্ত হয়ে এবং নৈতিকতার সহিত দায়িত্ব পালনের জন্য সকল প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রকৌশলী কাজী আরশাদুল ইসলাম, মো. শফিকুর রহমান, প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, প্রকৌশলী ফিরোজ আলম, প্রকৌশলী আবুল কালাম চৌধুরী, প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধকারকে পুষ্পস্তবক দিয়ে বরণ ও ক্রেস্ট উপহার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধতন প্রকৌশলী কর্মকর্তাবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য, কাউন্সিল সদস্যগণ, প্রকৌশলীবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৗশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

