গতকাল (২৯ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য,শ্রমজীবী ও পেশাজীবী মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামের অবিসংবাদিত ত্যাগী নেতা প্রয়াত কমরেড আহসানউল্লাহ চৌধুরীর শোকসভা চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব হলে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রগতির যাত্রীর সাংস্কৃতিক সম্পাদক জয়ন্তী রাহার পরিচালনায় শোকসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া সভায় প্রগতির যাত্রীর সাধারণ সম্পাদক ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় প্রয়াত কমরেড আহসানউল্লাহ চৌধুরীর সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি কমরেড শাহ আলম,টিইউসির চট্টগ্রাম জেলা সম্পাদক তপন দত্ত,জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের বিভাগীয় সম্পাদক শেখ নুর উল্লাহ বাহার, প্রগতির যাত্রীর সভাপতি ডা.নিশীথ রঞ্জন দে, সাংবাদিক সুভাষ দে,চট্টগ্রাম জেলা সিপিবি’র সভাপতি অধ্যাপক কমরেড অশোক সাহা,সিপিবির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি অধ্যাপক কানাই দাশ,নারীনেত্রী নুরজাহান খান, টিইউসির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের মাসুদ,অধ্যাপক রঞ্জিত দে, কমরেড আহসানউল্লাহ চৌধুরীর সুযোগ্য কন্যা ড.শামসুন নাহার চৌধুরী লোপা, ডা. এ কে এম আরিফ উদ্দিন বাচ্চু ও ইপসা’র প্রধান নির্বাহী ড.মো আরিফুর রহমান।


শোকাঞ্জলি পাঠ করেন শোকসভা পরিষদের সদস্যসচিব খোদেজা বেগম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শোকসভা পরিষদের সদস্য নূপুর ধর। স্বায়ীত্বশীল উন্নয়ন সংগঠন ইপসার পরিবেশনায় কমরেড আহসানউল্লাহ চৌধুরীর জীবনভিত্তিক একটি প্রামান্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়।
শোকসভা প্রস্তুতি পরিষদের চেয়ারম্যান রথীন সেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোকসভায় বক্তারা বলেন,কমরেড আহসানউল্লাহ চৌধুরী সারা জীবন শোষিত,বঞ্চিত ও মেহনতি মানুষের জন্যে সংগ্রাম করে গেছেন। ষাটের দশকের রাজপথ কাঁপানো এই বিপ্লবী নেতা আয়ুবশাহীর তখতে-তাউসে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। কিংবদন্তী কমিউনিস্ট নেতা কমরেড আহসানউল্লাহ চৌধুরী ছিলেন আজীবন ত্যাগী, বিপ্লবী এবং বাম-রাজনীতির এক নির্লোভ, সৎ ও আপোসহীন কণ্ঠস্বর। চট্টগ্রাম অঞ্চলের শ্রমিক আন্দোলনে ছিল তাঁর অগ্রণী ভূমিকা। তাই, শ্রমজীবী মানুষের তিনি ছিলেন এক মহানায়ক ও উজ্জ্বল নক্ষত্র। সমাজ ও রাষ্ট্রের বৈষম্য ও শোষণ যেদিন অবসান হবে,সেদিন কমরেড আহসানউল্লাহ চৌধুরীর আত্মা শান্তি পাবে। চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে বর্তমানে যে ষড়যন্ত্র চলছে- এ দুঃসময়ে চট্টগ্রামের মানুষ কমরেড আহসানউল্লাহ চৌধুরীর অভাব হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। তবে কমরেড আহসানউল্লাহ চৌধুরীর ত্যাগ-তিতিক্ষা কখনো বৃথা যাবে না, জাতি একসময় এর সুফল ভোগ করবে।


