আল আরাফাহ ইসলামি ব্যাংক পিএলসি’র সিলেট জোনের অঞ্চলপ্রধান ব্যাংকার মোহাম্মদ আজম (৫৭) আজ (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি –রাজেউন)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডায়াবেটিস, কিডনিসহ নানা জটিল রোগে ভোগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, একপুত্র ও দু’কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব রেখে গেছেন। আজ শনিবার বাদআছর তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা চট্টগ্রাম শহরের ওমরগণি এমইএস কলেজ মাঠে এবং একমাত্র ছেলে মো. তাহমিদুল আজম মাসিয়াত আমেরিকায় অবস্থানের কারণে তাঁর দ্বিতীয় নামাজে জানাজা আগামীকাল (২৮ সেপ্টেম্বর) বাদআছর ভাটিয়ারি খিল্লাপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।
মোহাম্মদ আজম ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।মা আজব বাহার ও বাবা নজির আহমেদ। পাঁচভাই ও চারবোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তিনি ভাটিয়ারি টিএসসি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি(১৯৮৪), চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি (১৯৮৬) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে মাস্টার ডিগ্রি নিয়ে ১৯৯২ সালে কমার্স ব্যাংকে তাঁর ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর দেড়দশকের বেশি সময় ধরে তিনি যমুনা ব্যাংকের ভাটিয়ারি, জুবিলি রোডসহ বিভিন্ন শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে তিনি আল আরাফাহ ইসলামি ব্যাংকে যোগ দেন। তিনি এ ব্যাংকের চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যাংকিং পেশার পাশাপাশি তিনি নানান সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। নিজএলাকায় তিনি একজন সমাজহিতৈষী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমধিক পরিচিত। জন্মস্থান ভাটিয়ারির সকল সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি কমবেশি অবদান রেখেছেন। বিজয় স্মরণী কলেজের গর্ভনিংবডির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তিনি এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে যথেষ্ট অবদান রাখেন। তিনি ভাটিয়ারি টিএসসি উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, ভাটিয়ারি হোসাইনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, বানুরবাজার রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সদস্য, ভাটিয়ারি হোসাইনিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সদস্য, ফৌজদারহাট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য, ভাটিয়ারি খিল্লাপাড়া জামে মসজিদ পরিচালনার কমিটির সভাপতি, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির আজীবন সদস্য, সীতাকুণ্ড সমিতি- চট্টগ্রাম এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিসহ বহু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার স্ত্রী সৈয়দা রৌশন জামাল বিজয় স্মরণী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত।

