নানামুখি সমস্যায় নিমজ্জিত বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) এর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ফের ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে প্রগতির দুর্গতি। যাঁর যাদুস্পর্শে সাড়ে ৬কোটি টাকার লোকসানে ডুবে থাকা প্রগতি অল্পদিনেই পুনরায় লাভের সংস্পর্শে আসে তিনি হলেন, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো.আবুল কালাম আজাদ। ১১মে, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে তিনি এ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ কে আজাদ এর আগে (১৮ মে ২০২১ থেকে ১১ মে ২০২৩ পর্যন্ত) ইস্টার্ন ক্যাবলস লিমিটেড (ইসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসিএল-কে তিনি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন এবং বিশাল অংকের ব্যাংক ঋণ কমিয়ে আনেন। ইসিএল এর উৎপাদিত পণ্যবিক্রিতে তিনি বাজারে অভূতপূর্ব সাড়া তৈরি করতে সক্ষম হন। এছাড়া, ইসিএল এর উৎপাদিত পণ্য চীনে রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেন।

প্রগতিতে টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল এমডি নিয়ে একটি কথা প্রচলিত আছে। কেউ কেউ মনে করেন,টেকনিক্যাল এমডি হলে প্রগতি আরও ভালোভাবে পরিচালিত হতো-এ বিষয়টি ভুল প্রমাণ করেছেন প্রগতির এমডি আবুল কালাম। টেকনিক্যাল ব্যক্তি না হয়েও নিজ যোগ্যতায় প্রগতির বিরাজমান দুর্গতি লাঘব করে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। ব্যবসায়িক কলাকৌশল প্রয়োগ করে তিনি প্রগতির সংযোজিত গাড়ি বেচাবিক্রির ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছেন। সর্বোচ্চ মেধার হিরন্ময় সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি প্রগতিকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছেন এবং এ সংস্থাটিকে আরো সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী এবং লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
এ কে আজাদ ২০০৬ সালে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন এর চাকরিতে প্রবেশ করেন। প্রথমে তিনি বিএসইসি’র অন্যতম প্রতিষ্ঠান এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিএল) এ ২০০৬ থেকে ২০১৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এবিএল এ কর্মকালীন সময়ে তিনি হিসাব বিভাগীয় প্রধান এবং এবিএল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর লিস্টেড কোম্পানি হওয়ায় কোম্পানি সচিব পদে দক্ষতা, সুনাম, সততা ও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৮ সালের আগস্টে করপোরেশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেড (এনটিএল) এ বদলি হন। এনটিএল এ কর্মকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর লিস্টেড কোম্পানি হওয়ায় কোম্পানি সচিব হিসেবে যথেষ্ঠ মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখেন এবং সুনাম, সততা ও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ব্যবসায় বাণিজ্য ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এশিয়ান বিজনেজ পাটনারশিপ হতে ‘মহাত্ম গান্ধী পীস এ্যাওয়ার্ড-২০২২’ পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এবিএল এ চাকরিকালীন সময়ে তিনি ব্যবসায়িক দ্বিপাক্ষিক আলোচনার উদ্দেশে চীন সফর করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ পাবলিক এডমিনিসট্রেশন ট্রেইনিং সেন্টার (বিপিএটিসি),সেন্টার ফর ট্যাক্স ট্রেনিং এ্যন্ড রিচার্স (সিটিটিআর), এনপিও, এপিও, ডিএসই, সিএসডিএফ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন।
এদিকে এবছর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পরিবেশ সুরক্ষার জন্য টেকসই শিল্প ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে পরিবেশবান্ধব কারখানা হিসেবে “গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড” পুরস্কার দেয়া হয়। গত ২৪জুন রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের কাছ থেকে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ।

এ কে আজাদ ১৯৭৯ সালে পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাতবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক(সম্মান)ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি ইনিস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) থেকে চার্টার্ড সেক্রেটারি প্রফেশনাল ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগতজীবনে তিনি বিবাহিত। তার স্ত্রী ফয়জুননেছা একজন সরকারি চাকরিজীবী। তাঁরা দুই পুত্রসন্তানের জনক। কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের সাথে জড়িত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের জেনারেল মোটরস-এর কারিগরি সহযোগিতায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চলের বাড়বকুণ্ডে গাড়ি উৎপাদনের লক্ষে ব্যক্তি মালিকানায় গান্ধারা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালে সরকার এ প্রতিষ্ঠানকে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (পিআইএল) নামে জাতীয়করণ করে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন (বিএসইসি) এর নিয়ন্ত্রণে দেয়া হয়- যা অদ্যাবধি বিএসইসি কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে।
লেখক- প্রধান-সম্পাদক, সাপ্তাহিক চাটগাঁর বাণী ও চাটগাঁরবাণীডটক

