শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

[the_ad id='15178']

নেতৃত্বের দায়িত্ব এড়িয়ে গেলে চলবে না; মানুষের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

দ্রব্যমূল্যের অগ্নিমূল্যঃ সাধারণ জনতার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে!

মো. তানজিম হোসাইন

আজ বাংলাদেশের ঘরে ঘরে একটাই কষ্ট – কীভাবে বাঁচবো? কীভাবে দু’বেলা পেট ভরাবো? চাল, আলু, তেল, ডাল – নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসের দাম যেন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। যে মানুষগুলো নীরবে সহ্য করে যাচ্ছে প্রতিদিনের এই সংগ্রাম, তাদের মুখের হাসি যেন একে একে ফুরিয়ে আসছে। অথচ, কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেই; নেই সঠিক পরিকল্পনা কিংবা সিন্ডিকেট ভাঙার দৃঢ় অঙ্গীকার।

- Advertisement -

সবার আগে দরকার নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম কমানো। কেননা, এই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি আর সহ্যসীমার মধ্যে নেই। সরকারের দায়িত্ব মানুষকে শ্বাস নিতে দেয়া, বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেয়া। অভ্যুত্থানের স্পিরিট, স্বাধীনতার স্পিরিট – এসব সবই অর্থহীন হয়ে যাবে যদি মানুষ বেঁচে থাকতেই না পারে।

- Advertisement -shukee

আজকের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে, সাধারণ মানুষের মনের ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিজেদের পরিশ্রমের ফসল যেখানে ঘরের অন্ন হতে পারছে না, সঞ্চয় যেখানে শেষ প্রান্তে – সেখানে মানুষ আর কত সহ্য করবে? যদি এই সিন্ডিকেট, এই অন্যায়ভাবে মুনাফা আদায়ের প্রক্রিয়া বন্ধ না করা হয়, তাহলে সমাজে এক ভয়ঙ্কর প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে।

সাধারণ ছাত্র-জনতা যখন এক হয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটিয়েছে, তখনকার সেই দৃঢ়তার স্পিরিট কি আজও সজাগ নয়? এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায়, কিন্তু মানুষের দুঃখ যেন দূর হচ্ছে না। দ্রব্যমূল্যের অগ্নিমূল্যে বিপর্যস্ত জনজীবন আর কতদিন সহ্য করবে? আজ প্রয়োজন মন ভুলানো গল্পের চেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। মানুষের বাঁচার অধিকার আগে, সংস্কারের গল্প পরে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনুন, মানুষকে বাঁচতে দিন—নয়তো সেই একই মানুষ আবার রাস্তায় নামবে, গর্জে উঠবে আপনাদের প্রতিও।

নেতৃত্বের দায়িত্ব এড়িয়ে গেলে চলবে না; মানুষের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। আগে তাদের বাঁচতে দিতে হবে, তারপর সংস্কারের কথা। কারণ, একটি পরিবার শান্তিতে বাঁচলে, সমাজের শান্তি স্থায়ী হয়; আর সমাজের শান্তি টিকলে, দেশ এগিয়ে যায়।

লেখকঃ শিক্ষক ও সাংবাদিক

সর্বশেষ

সোনার দাম আরও কমলো

এই বিভাগের আরও