এতদিন তাকে শুধুই দেখা যেত বড় পর্দায়, সিনেমার কোনো গল্পে। বাংলাদেশ কিংবা পশ্চিমবাংলায় তিনি রূপালি জগতের তারকা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তবে এবার তিনি যুক্ত হয়েছেন ক্রিকেটের সঙ্গে। ঢাকাই সিনেমার মেগাস্টার শাকিব খান কিনেছেন বিপিএলের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। তার দল ‘ঢাকা ক্যাপিটালস’ এখন আলোচনায়। টুর্নামেন্ট নিয়ে তার কি পরিকল্পনা? আইপিএলকে টেক্কা দেওয়ার ইচ্ছেই বা কতটুকু? এসবকিছু নিয়ে আলোচনা করেছেন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে।
বিপিএল-এ আপনার প্রত্যাশার দলে প্রত্যাশিত খেলোয়াড় পেয়েছেন?

এ পর্যন্ত আমরা ঢাকা ক্যাপিটালসের হাই অথোরিটি সবাই মিলে খেলোয়াড়দের নিয়ে যে ছকে পরিকল্পনা করেছি, দেশ বিদেশের ক্রিকেটারদের পেয়েছি। আরও কিছু চমক আমাদের পরবর্তী রাউন্ডে থাকবে। যেগুলো এখন বলতে চাই না। এতটুকু জানাতে পারি, আরও বিদেশী খেলোয়াড় যুক্ত হবেন। তাই এখন পর্যন্ত বলতে পারি, আমরা আমাদের চাহিদামত প্লেয়ারদের পাচ্ছি এবং আগামীতেও পাবো। মানুষ আমাদের খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে প্রশংসা করছেন। আগামীতে আরও বিদেশী খেলোয়াড়দের নাম ঘোষণায় যখন হবে মানুষের এখনকার এক্সাইটমেন্ট আরও বাড়বে বলে আমি মনে করি।
সিনেমা জগতের আপনি পাকাপোক্ত খেলোয়াড়। কিন্তু ক্রিকেটে স্বল্পজ্ঞান বলা যায়। সেক্ষেত্রে কিভাবে সামলাবেন?
ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলেছি। বাংলাদেশি, ভারতীয় বা এশিয়ানদের কাছে ক্রিকেট অতিপ্রিয় একটি খেলা, যা শৈশব থেকে আমরা দেখে বড় হই। তবে হ্যাঁ, দলের মালিকানা (ঢাকা ক্যাপিটালস) নিয়ে আমার পথচলাটা প্রথমবার। মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে এত বড় দলের মালিকানা নিয়ে এগিয়ে যাওয়াটাকে আমি চ্যালেঞ্জিং ওয়ার্ক মনে করি। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সবার অ্যাফোর্ট ও দেশ-বিদেশের ক্রিকেটপ্রেমী ও সিনেমাপ্রেমী সকলের যৌথ ভালোবাসাটা আমাদের সঙ্গে থাকবে।
সাফ: প্রথমার্ধেই ভারতকে তিন গোল বাংলাদেশেরসাফ: প্রথমার্ধেই ভারতকে তিন গোল বাংলাদেশের
আপনার দলের জয় নিয়ে কতটা প্রত্যাশা করেন?
বিপিএল প্লেয়ার ড্রাফটে নাম ঘোষণার পর থেকে মানুষ অনেক বেশি উৎসাহ দিয়েছে। আমাকে পুরো বাংলাদেশ এভাবে ওয়েলকাম করেছে যা আমাকে ইমোশনাল করেছে। আমরা শতভাগ আশাবাদি। আমরা আশা করি. বিজয় আমাদেরই আসবে এবং আনন্দের শেষ হাসিটা আমরাই হাসবো।
সিনেমার তারকাদের ক্রিকেটের দল কেনার যে প্যাশন, সেটা ক্রমশ বাড়ছে কেন?
আমরা এশিয়ানরা ক্রিকেটকে অনেক ভালোবাসি। ছেলেবেলা থেকে কমবেশি সবার ইমোশনের সঙ্গে ক্রিকেট মিশে আছে। আমিও ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলেছি। সে কারণে এই খেলায় আমারও ফ্যাসিনেশন ছিল। প্রতিটি দেশের ফিল্ম-মিডিয়ার টপ পজিশনে যারা আছেন, তাদের সঙ্গে ক্রিকেটার বা স্পোর্টসম্যানদের ভালো যোগাযোগ থাকে। যেমন দেখুন ফুটবলে আমেরিকান সকার টিমে টম ক্রুজের দলে খেলতেন ডেভিড বেকহ্যাম। অনেক আগে থেকে আমার স্পোর্টসে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু ব্যাটে বলে মিলছিল না। এবারের বিপিএলের ম্যানেজমেন্টে নতুন অনেকে যুক্ত হয়েছেন। সবাই আমাকে অনেক বেশি উৎসাহিত করেছেন। আমার কোম্পানি রিমার্ক-হারল্যান এবং অন্যান্য বন্ধু যারা আছেন সবাই মিলে আশা করছি সত্যি দারুণ কিছু হবে।
ডানার শঙ্কায় অনিশ্চিত ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিনডানার শঙ্কায় অনিশ্চিত ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিন
বাংলাদেশের সুপারস্টার বলেই কি যুক্ত হলেন, নাকি অন্য কারণ আছে?
কিছুদিন আগে নিউইয়র্কে বেড়াতে গিয়ে দেখলাম, সেখানকার টেনিস টুর্নামেন্টে অনেক তারকা খেলা দেখতে এসেছেন। তাছাড়া আমার মনে হয় বিনোদন এবং খেলাধুলা যদি একসাথে এগিয়ে যায় তবে সুফল আসতে পারে। কারণ, দুই সেক্টরই মানুষকে আনন্দ দেয়। আমেরিকান ফুটবল টিম, আইপিএল সবখানে দেখি বিনোদন এবং স্পোর্টস মিলে কাজ করে। বাংলাদেশেও এটা শুরু হলো। এসবের পাশাপাশি বড়কিছু করতে গেলে ইচ্ছেটাই আসল। আমার ইচ্ছেটাই অনেক বেশি ছিল।
আইপিএলকে টেক্কা দেয়ার প্রচেষ্টা আছে?
একদমই না। এটা তো দেশীয় অভ্যন্তরীণ টুর্নামেন্ট। আমরা আমাদের মতো করে ভালো করার চেষ্টা করবো। তবে হ্যাঁ, ঢাকা ক্যাপিটালস ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ করতে পারে। এটা আন্তর্জাতিক আরও এন্টারটেইনিং হতে পারে। কিন্তু এখানে টেক্কার প্রশ্নই আসে না। আমরা কেউ কারও প্রতিযোগী না। আমার ইচ্ছে আছে দুবাই, আবুধাবি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, আমেরিকাতে আগামীতে ঢাকা ক্যাপিটালস ইন্টারন্যাশনাল বিভিন্ন প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেবে। গ্লোবালি এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের এই পরিকল্পনা। এর মাধ্যমে অনেক মেধাবী নতুন খেলোয়াড় উঠে আসবে, যারা পরে জাতীয় দলে অনেক ভালো অবস্থানে যাবে।
ভারতবর্ষে ক্রিকেট ও বিনোদনের মধ্যে প্রেম এবং মেলবন্ধন রয়েছে। বাংলাদেশে এই চিত্রটা কেমন?
স্ক্রিনের বাইরে এবং মাঠের বাইরে ফিল্ম মিডিয়া ও ক্রিকেটারদের মধ্যে দারুণ একটি সুসম্পর্ক রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে অনেক অনুষ্ঠান বা ঘরোয়ায় আড্ডায় কমবেশি সবারই দেখা হয়। আমরা দুই সেক্টর এতদিন যে যার মত করে কাজ করতাম। এখন এক হয়ে কাজ করতে যাচ্ছি।

