Friday, 16 October 2026

[the_ad id='15178']

প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় বক্তারা

শ্রমিক আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামে কমরেড আহসান উল্লাহ চৌধুরীর অবদান অবিস্মরণীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি কমরেড আহসান উল্লাহ চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা করেছে সিপিবি, চট্টগ্রাম জেলা।

- Advertisement -

আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ) নগরীর হাজারী লেনে সিপিবির জেলা কার্যালয়ে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

- Advertisement -shukee

জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড অশোক সাহার সভাপতিত্বে সভার শুরুতে কমরেড আহসান উল্লাহ চৌধুরীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

সভায় বক্তব্য দেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি কমরেড শাহ আলম, মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, প্রবীণ সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুভাষ দে, বীর মুক্তিযোদ্ধা বালাগাত উল্লাহ, জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, প্রবীণ শ্রমিক নেতা মো. মসিউদদৌলা এবং জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক উত্তম চৌধুরী। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক নুরুছাফা ভূঁইয়া।

সভায় বক্তারা বলেন, শ্রমিক আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক প্রতিটি আন্দোলন -সংগ্রামে আহসান উল্লাহ চৌধুরীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। তাঁর ত্যাগ, আদর্শ ও আপসহীন রাজনৈতিক জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এগিয়ে নিতে হবে।

সিপিবির নেতারা বলেন, ষাটের দশকে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে এবং ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালের বন্দর শ্রমিক আন্দোলনে আহসান উল্লাহ চৌধুরী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম বন্দরে সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস প্রতিরোধের আন্দোলনেও তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান সংগঠক। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আশির দশকে এরশাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও তিনি চট্টগ্রামে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন।

তাঁরা বলেন, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আহসান উল্লাহ চৌধুরীর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিক আন্দোলনের ঐক্য প্রতিষ্ঠায় স্কপ গঠন এবং ১৫ দলের ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। আজীবন বিপ্লবী এই নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শ্রমিক-মেহনতি মানুষের মুক্তি এবং সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেছেন।

বক্তারা আরও বলেন, আহসান উল্লাহ চৌধুরী ও তাঁর পূর্বসূরি বিপ্লবীদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক সমতা, শোষণমুক্ত সমাজ এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের মুক্তি। সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রচলিত বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি। তাঁর স্মৃতির প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে শ্রমিকের অধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান এবং সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন আরও জোরদার করতে হবে।

বক্তব্য রাখছেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি কমরেড শাহ আলম

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও