বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীকে গুম ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উইং কমান্ডার মো. সাইফুর রহমানকে হেফাজতে নিয়েছে বিমান বাহিনী।
রবিবার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাতে তার বাসা থেকে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট) তাকে আটক করে। পরে তাকে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখা হয়। সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সংশ্লিষ্ট সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম উঠে আসে।
সূত্র জানায়, বিএনপির নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীকে গুম ও হত্যার ঘটনার সময় সাইফুর রহমান স্কোয়াড্রন লিডার পদে থেকে র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। তিনি সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের জামাতা। সর্বশেষ তিনি বিমান সদর দপ্তরের ‘ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিং’ ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এদিকে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি অভিযোগ করে আসছে- তৎকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশে তাকে গুম করা হয়। ইলিয়াস আলী টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও সোচ্চার সমালোচক ছিলেন। ২০০৯ সালে ভারতের প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সিলেট অঞ্চলে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, সেখানে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

