রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

[the_ad id='15178']

চট্টগ্রামে মাঠপর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য আদালতের ভ্রাম্যমাণ কার্যক্রম জোরদারের আহবান

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে নিররপদ খাদ্য আদালত মাঠ পর্যায়ে তদারকি কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শন করে নানা অনিয়ম ও অপরাধের প্রমান পায়। গেল ২০ জুন  নগরীর বিভিন্ন এলাকায়  ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আবুল খায়ের ফুড এণ্ড বেভারেজ, মধুবন সুইটস ইন্ডাস্ট্রিজ লি ও ময়মনসিংহ এগ্রোতে খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণে বিষাক্তদ্রব্যের (প্লাস্টিক) ব্যবহার-উপস্থিতি, খাদ্যপণ্য (চানাচুর, চিড়া, বুট) উৎপাদনে পোড়াতেলের ব্যবহার ও প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় বর্জ্য পদার্থ সংরক্ষণ, খাদ্যদ্রব্য মোড়কীকরণে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ না করা, বিভ্রান্তিকর তথ্য সংযোজন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ম্যাংগো ফ্রুট পাল্প সংরক্ষণ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণ, খাদ্যকর্মীদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করাসহ নানাবিধ অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়,  অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে (বিভিন্ন পোকামাকড়ের অবাধ বিচরণ) খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, ⁠নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদন, ⁠বর্জ্য পদার্থ সংরক্ষণ, খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহার, ⁠খাদ্য স্পর্শক হিসেবে খোলা কাগজ, খবরের কাগজের ব্যবহার, ⁠মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ, ⁠নির্ধারিত পদ্ধতিতে মোড়কীকরণ না করাসহ নানাবিধ অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণসহ নানাবিধ অসঙ্গতি হাতে নাতে প্রমান পান। বিশুদ্ধ আদালতের এই অভিযানে নেতৃত্ব প্রদান করেন চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যজিস্ট্রেট ও বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তফা। অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা অংশগ্রহন করেন।

- Advertisement -

বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের মাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে তদরাকি করে এধরনের অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়ে দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্টান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ আদালতের বাইরে সরেজমিনে এধরনের কার্যক্রমের জন্য বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিজ্ঞ বিচারক এর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে মাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে এধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা আরও বাড়ানোর জানিয়েছেন।

- Advertisement -shukee

রবিবার (২১ জুন) গণমাধ্যমে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের প্রেসিডেন্ট জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক মোঃ সেলিম জাহাঙ্গীর, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমান প্রমুখ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ভোক্তার প্রতিনিয়ত এধরনের হাজারো প্রতারনা ও বঞ্চনার শিকার হলেও সরকারের মাননিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরবতার কারণে তার কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। ফলে খাদ্য বাহিত শত শত রোগে পুরো জাতি আক্রান্ত। যার জলন্ত দৃষ্টান্ত নগরীর হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়গনিস্টক সেন্টারগুলোতে রোগীর উপছেপড়া ভিড। এমন কোনো পরিবার পাওয়া যাবে না, যেখানে প্রতিদিন পরিবার সদস্য/সদস্যাদেরকে কোনো না কোনো ওষুধ সেবন করতে হয় না। মনে হবে পুরো জাতিই রোগাক্রান্ত।

নেতৃবন্দ আশা করে বলেন, আদালতের গন্ডির বাইরে চট্টগ্রামের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত যেভাবে একের পর এক সরেজমিনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যতিক্রমধর্মী ও জাতি আশা আকাংখার প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন, তা পুরো দেশের জন্য একটি অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। একই সাথে সাধারণ মানুষের ভোক্তা অধিকারসহ অন্য যে কোনো অধিকার হরণের বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ জাতিকে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নতুন করে উদ্দীপনা তৈরী করবে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও