জ্বালানি তেল-বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত অসম বাণিজ্যচুক্তি বাতিল,নিউমুরিং টার্মিনাল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালনাসহ ৭ দফা দাবিতে ১৬-২২ জুন কেন্দ্রঘোষিত দাবি সপ্তাহের প্রথম দিনে বাসদ ( মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার ( ১৬ জুন) বিকালে চট্টগ্রামের নিউমার্কেট মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিউমার্কেট মোড় হয়ে জিপিও মোড়ে আরেকটি সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে নিউমার্কেট ও জিপিও এলাকায় প্রচারপত্র বিলি করা হয়।

বাসদ(মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা শাখার সমন্বয়ক শফি উদ্দিন কবির আবিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা শাখার সদস্য আসমা আক্তার,জাহেদুন নবী কনক,দীপা মজুমদার। সমাবেশ পরিচালনা করেন রিপা মজুমদার ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন,“নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছেই। এরইমধ্যে আরেক দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। গণশুনানিতে বলা হয়েছিল যে, রেন্টাল-কুইক রেন্টালের বোঝা ও সিস্টেম লস কমালে বিদ্যুতের দাম বরং কমানো যাবে। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। বোরো মৌসুমে কৃষকের ফসল ডুবেছে, কিন্তু ফসল কাটার ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়নি। ফসল বিক্রিতেও কৃষক ঠকছে। শিল্পাঞ্চলে একের পর এক কারখানা বন্ধ হচ্ছে, বেকার হচ্ছে শ্রমিকরা। এককথায় সাধারণ মানুষের অবস্থার কোনো পরিবর্তন আমরা দেখছি না।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন,“বামপন্থী দলগুলো সংসদ সদস্যদের কাছে খোলা চিঠি দেয়ার পরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিএনপি,জামাত,এনসিপিসহ সরকারি-বিরোধীদলের কোনো সাংসদই সংসদে কোনো আলোচনা তুলেননি।শুধুমাত্র একজন স্বতন্ত্র সংসদ আলোচনা করেছেন।গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে দেশের মানুষকে অন্ধকারে রেখে, জাতীয় সংসদবিহীন অবস্থায় নিজেদের এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি ভয়াবহ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই চুক্তির বিভিন্ন ধারা কেবল বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থবিরোধীই নয়, তা দেশের বাণিজ্যিক সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রবল হুমকি।এ চুক্তির ফলে মার্কিন পণ্যে শুল্ক ছাড়ের শর্তের কারণে সরকার বছরে প্রায় ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে।বাংলাদেশ সামরিক, অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে, জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্যের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে, কৃষি, ওষুধশিল্প, পোলট্রি, ডেইরি, মৎস্য খাত, রাষ্ট্রায়ত্ত খাত, দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারের কাছে আমাদের আহবান,আপনারা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ চাইলে,সংসদে আলোচনা করে এ চুক্তি দ্রুত বাতিল করার উদ্যোগ নিন।”
এসকল বিষয়ে সরকারের অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে সপ্তাহব্যাপী আমরা দাবি সপ্তাহ পালন করছি। আমরা জনগণকে নিম্নের দাবিগুলোর ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাই।

১.জ্বালানি তেল-বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমাও। সর্বজনীন রেশনিং চালু করো।
২.মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করো।
৩.জুলাই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করো। মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধ করো।
৪.রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গণতান্ত্রিক সংস্কার নিশ্চিত করো। সংবিধানের অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিল করো। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কাজসহ ৬টি মৌলিক অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করো।
৫.শ্রমিকের ন্যূনতম জাতীয় মজুরি নিশ্চিত করো। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চিনিকল-পাটকল চালু করো।
৬.কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করো। সার, বীজ, কীটনাশকে পর্যাপ্ত ভর্তুকি নিশ্চিত করো।
৭.আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ করো। নারী নির্যাতন, ধর্ষণকারীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করো।

