বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৫২ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। এই তরুণদের কাজ না দিলে তারা মানবপাচারসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়তে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আর্থিক কাজেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
আজ মঙ্গলবার ( ১২ মে ) কক্সবাজারের স্থানীয় একটি হোটেলে ‘রোহিঙ্গাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: দৃষ্টিভঙ্গি ও সম্ভাবনা শীর্ষক’ কর্মশালায় বিশিষ্টজনেরা এসব অভিমত তুলে ধরেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতা সংস্থা ইউকেএইডের সহায়তায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মানবিক সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি (এইচসিএমপি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে করণীয় ও সুপারিশ তুলে ধরতে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ব্র্যাক বাস্তবতার নিরিখে এই ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে হবে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ভালো কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে।
ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক (অ্যাডভোকেসি, কমিউনিকেশনস অ্যান্ড এনগেজমেন্ট) কেএএম মোর্শেদ বলেন, ব্র্যাক উদ্ভাবনীমূলক পাইলট উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এসব কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়ন ও বিস্তৃত পরিসরে সম্প্রসারণে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতা ও অঙ্গীকার প্রয়োজন।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর (মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আগত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিক-এফডিএমএন) আর্থিক কাজেও অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে যেসব সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল ক্যাশ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ভিত্তিক পাইলট কার্যক্রম গ্রহণ, ব্যাংক ও মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব, রোহিঙ্গাদের সাক্ষরতা বৃদ্ধি ও নারীকেন্দ্রিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচির সম্প্রসারণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক আয় বৃদ্ধিতে যুবদের সম্পৃক্তকরণ, জীবিকা ও দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যোগের সঙ্গে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে সমন্বয় করা ইত্যাদি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের এইচসিএমপি কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক ও অফিস ইন চার্জ (ওআইসি) রেজাউল করিম।
অনুষ্ঠানে ‘রিলায়েন্স অ্যান্ড এডাপটেশন ফান্ড’ বিষয়ক উপস্থাপনা তুলে ধরেন লাইভলিহুডস অ্যান্ড স্কিলস ডেভলপমেন্ট সেক্টরের (এলএসডিএস) সমন্বয়ক আশিক কবির।
কর্মশালায় ‘আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: প্রত্যাশা এবং সম্ভাবনা: ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) সহযোগিতায় পাইলট প্রকল্প থেকে ব্র্যাকের শিক্ষা’ শীর্ষক উপস্থাপনা তুলে ধরেন ব্র্যাক এইচসিএমপি’র উপদেষ্টা সুব্রত কুমার চক্রবর্ত্তী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক এইচসিএমপির আওতাধীন ফুড সিকিউরিটি স্কিলস অ্যান্ড লাইভলিহুডস (এফএসএসএল) সেক্টরের প্রোগ্রাম ম্যানেজার কানিজ জিনাত।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন রিফুইজি কোঅর্ডিনেশন প্লাটফর্মের (আরসিপি) হেড ডেভিড বাডগেন, ক্যাম্প ইনচার্জ ( ক্যাম্প ১ ইস্ট ও ১ ওয়েস্ট) মো. শরিফুল ইসলাম, সুরাইয়া আক্তার সুইটি (ক্যাম্প ৪ ও ৪ এক্সটেনশন), মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম (ক্যাম্প-৯ ও ক্যাম্প-১০), ক্যাম্প ইনচার্জ (৩ ও ৫) মো. আব্দুর রউফ ও অন্যান্য কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে সরকারি, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) আর্থিক সহায়তায় পাইলট প্রকল্পটি শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ রয়েছে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত। বর্তমানে ক্যাম্প ২ ওয়েস্ট, ক্যাম্প ৩, ক্যাম্প ৪ এক্সটেনশন, ক্যাম্প ৯, ক্যাম্প ১৪, ক্যাম্প ১৫, ক্যাম্প ১৬-তে এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৬০ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আনুষ্ঠানিক দক্ষতা উন্নয়ন, ৪০০ জনকে অনানুষ্ঠানিক খাতে প্রশিক্ষণ, ৩৯৮ জন নারীকে নগদ সহায়তা, ১২৩ জন সদস্যকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন সহায়তা এবং) শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) এর সহযোগিতায় ২৯৭ জনকে মোবাইল সিম বিতরণ করা হয়েছে।

