বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

[the_ad id='15178']

কাপ্তাই হ্রদে পানি সংকট তীব্র, বিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বনিম্নে, ৪ ইউনিট বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনাবৃষ্টি ও প্রচণ্ড তাপদাহে কাপ্তাই হ্রদে পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে হ্রদের পানির ওপর নির্ভরশীল কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের (কপাবিকে) ৫টি ইউনিটের মধ্যে ১টি ইউনিটে মাত্র ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। সচল থাকলেও পানিস্বল্পতায় কেন্দ্রের অপর ৪টি ইউনিট বন্ধ রয়েছে।

- Advertisement -

বুধবার (২২ এপ্রিল) কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কেন্দ্রের সবগুলো ইউনিট সচল থাকলেও পানির অভাবে তা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পানি স্বল্পতার কারণে বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত ৫টি ইউনিটের মধ্যে ১ নং ইউনিট থেকে মাত্র ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট চালু অবস্থায় ২৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

- Advertisement -shukee

কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, বর্তমানে লেকে পানি থাকার কথা ৮৩ দশমিক ৮০ মিন সি লেভেল (এমএসএল)। কিন্তু পানি আছে ৭৭ দশমিক ৪৭ এমএসএল। পানিস্বল্পতায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তবে সহসা ভারী বৃষ্টিপাত হলে লেকে পানি বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে।

প্রসঙ্গত, ৬৮ এমএসএলকে বিপজ্জনক হিসেবে ধরা হয়। পানির লেভেল ৬৮ এমএসএলে নেমে গেলে উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে। হ্রদে পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।

এদিকে, কাপ্তাই লেকে পানি কমে যাওয়ায় একদিকে যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি লেকের ওপর নির্ভরশীল মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে লেক-সংশ্লিষ্ট পাঁচ উপজেলা— বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়িতে নৌপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লেকের বিভিন্ন স্থানে জেগে ওঠা চরে নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি লেকের বেশ কিছু অংশে পলি জমে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে লেকের ওপর নির্ভরশীল কর্মজীবী ও ব্যবসায় জড়িত হাজারো লোকজন কর্মহীন হয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও