জ্বালানি তেলের সংকটে অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। অভিভাবকরা বলছেন, অনলাইনে পড়াশোনা হলেও স্থবির হয়ে পড়ে শিশুর মানসিক বিকাশ। করোনাকালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষাবিদ বলছেন, আবারও সেই পথে হাঁটলে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে শিক্ষা ব্যবস্থা।
খুদে শিক্ষার্থীরাও অনলাইন ক্লাসের পক্ষে না। শ্রেণিকক্ষে বন্ধুদের সঙ্গে ক্লাস করার সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নয় তারা।

কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে, অফলাইনে টিচার আমাদের যে পরিমাণে গুরুত্ব ও মনোযোগের সাথে পড়াবেন, আমরা মনে করি না অনলাইনে সেভাবে পড়াতে পারবেন।
আরেক শিক্ষার্থী বলে, অনেকে আছে তারা অনলাইনে পড়ে আবার অনেক আছে তারা পড়ে না। মোবাইল, ট্যাব ওপেন করে অন্যান্য কাজ করে। এছাড়া প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে অনেক শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট সুবিধা পায় না।
করোনা অতিমারির সময়ে দেশে অনলাইন ক্লাসের সূচনা। অভিভাবকরা বলছেন, তখন ক্লাস হয়েছে ঠিকই; কিন্তু মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে শিশুদের। হুটহাট কোনো সিদ্ধান্তই ভালো ফল বয়ে আনে না বলেও তাদের মত।
অভিভাবকরা বলেন, নির্বাচন ও রমজানে শিক্ষার্থীরা তেমন একটা পড়াশোনা করতে পারেনি। অনেকের মোবাইল নেই, অনেকের ট্যাব নেই। এছাড়া জ্বালানি সঙ্কটের কারণে স্কুল বন্ধ রাখা ঠিক হবে না। কারণ একটা বাচ্চা স্কুলে আসে পড়াশোনার পাশাপাশি বন্ধুদের সাথে দেখা করতে, খেলা করতে।
জ্বালানি সংকটের দোহাই দিয়ে অনলাইন ক্লাসে ফিরে না গিয়ে দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন ঢাবি আইইআর অধ্যাপক নূর-এ-আলম সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলে বাচ্চাদের ২১ শতকের দক্ষতা বৃদ্ধি হবে না। স্কুলের সময়কে আমরা এগিয়ে আনতে পারি। দিনের আলোকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করি। স্কুলের অবকাঠামোগুলোতে বিদ্যুৎ তেমন খরচ করে না বলেই আমি মনে করি।
করোনাকালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আরও বলেন, অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের বৈষম্য দূর করার বিকল্প নেই।
নূর-এ-আলম সিদ্দিকী আরও বলেন, করোনাকালের অভিজ্ঞতা আমাদের খুব ভালো না। আমরা সেখানে যেতে চাই না। আমাদের যে লার্নিং গ্যাপ হয়েছে সেটা সেখান থেকেই শুরু হয়েছে। ওই ক্ষতি আমরা এখনও বহন করে যাচ্ছি। যদি একান্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হয় তাহলে সরকার আগে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে ল্যাপটপ, স্মার্ট ফোন আছে-এ ব্যাপারে নিশ্চিত হোক।

