’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ’২৪-এর গণ অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষায় গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট চট্টগ্রামের উদ্যোগে আজ শুক্রবার ( ১২ ডিসেম্বর) হাাজাারিগলি মৈত্রীভবন মিলনায়তনে এক মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাম গণতান্ত্রিক জোট সিপিবি জেলা সভাপতি কমরেড অশোক সাহার সভাপতিত্বে ও বাম গণতান্ত্রিক জোট জেলা সমন্বয়ক ও বাসদ জেলা ইনচার্জ কমরেড আল কাদেরি জয়ের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান,সিপিবি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড কাফি রতন,বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড আবদুর রাজ্জাক,বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য এডভোকেট শফি উদ্দিন কবির আবিদ, বাংলাদেশ জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম মন্টু,টিউইসি জেলা যুগ্ম সমন্বয়ক শ্রমিকনেতা তপন দত্ত,সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড মৃণাল চৌধুরী,ইউপিডিএফ চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক থুইক্যোচিং মার্মা,ঐক্য ন্যাপ চট্টগ্রাম জেলা সাধারণ সম্পাদক অজিত দাশ প্রমুখ।

সভার শুরুতে প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা প্রয়াত আহসানউল্লাহ চৌধুরী,ষাটের দশকের ছাত্রনেতা প্রয়াত সাবের হোসেন আজগরীসহ মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে একমিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
মতবিনিময়সভার ধারণাপত্র হিসেবে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রকাশিত খসড়া ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নগরের সেক্রেটারি নেভি দে।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, “অজেয় গণশক্তি ও গণসংগ্রামের মধ্য দিয়ে ’৫২, ’৬৯, ’৭১, ’৯০-এর ঐতিহাসিক বিজয় সম্ভব হলেও প্রতিবার সে বিজয় জনগণের হাতছাড়া হয়েছে। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে চব্বিশে অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র নির্মাণের আকাঙ্ক্ষাই এ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে উচ্চারিত হয়েছে। কিন্ত অভ্যুত্থানের ১৫ মাসের মাথায় এসে দেখা যাচ্ছে যে, এবারের বিজয়ও বহুলাংশে হাতছাড়া হতে চলেছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান বহির্ভূতভাবে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে সকল দলের সর্বসম্মত সুপারিশ নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ তৈরি না করে নিজেদের মত চাপিয়ে দিয়ে জুলাই সনদের নামে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ’২৪-এর গণ অভ্যুত্থানের বিরোধী অবস্থান নিয়ে চলছে। জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে লাভজনক বন্দরসমূহ জনগণকে না জানিয়ে সাম্রাজ্যবাদী বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেয়া হচ্ছে। দেশব্যাপী মব সন্ত্রাস চলছে। মাজার ভাঙা, বাউল শিল্পীদের উপর আক্রমণ, শারীরিক অপদস্ত করা, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের ঐতিহ্যকে ধ্বংসের চেষ্টা হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, মানুষ এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চায়। যেকারণে আমরা কোনো চিহ্নিত স্বৈরাচারী কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিস্ট শক্তি অথবা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী গণধিকৃত উগ্র ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বাইরে সকল অংশের দেশবাসীর অর্থাৎ শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষের সপক্ষের শক্তিসমূহের একটি ঐক্যবদ্ধ প্লাটফরম গড়ে তোলা জরুরি। সেই বিবেচনায় দেশের সকল দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল বাম রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিবর্গ, আদিবাসী তথা বিভিন্ন জাতিসত্তা, নারী সংগঠনসমূহ, শ্রম, কর্ম, পেশার সংগঠনসমূহ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ, অধিকার আন্দোলনের কর্মীবৃন্দসহ অনুরূপ অপরাপর সকল শক্তির সম্মিলনে জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে। যে রাজনৈতিক শক্তি ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে জন্ম নেয়া ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও সংবিধাননে বর্ণিত রাষ্ট্রীয় ৪ মূলনীতিতে প্রতিশ্রুত জন প্রত্যাশা, জন আকাঙ্ক্ষা, ঐতিহাসিক অর্জন, ’৯০-এর এবং সম্প্রতি ’২৪-এর জুলাই গণ অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা, স্বপ্ন বাস্তবায়নের সংগ্রামে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করবে।
নেতৃবৃন্দ গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট এর ভবিষ্যত কর্মকাণ্ডে শামিল হওয়ার জন্য দেশের অপরাপর সব গণতন্ত্রমনা, প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, সংগঠন, সমিতি ও ব্যক্তির প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

