আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস-২৫ উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবক কাজে অনুপ্রাণিত করতে দুর্যোগ ও উন্নয়নে স্বেচ্ছাসেবকদের অবদান: স্থানীয় প্রশাসনের করণীয় শীর্ষক সংলাপ জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিস ( জিএফএফও) ‘র অর্থায়নে, সেভ চিলড্রেন এর সহযোগিতায়, ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা) বাস্তবায়িত Child centred anticipatory Action for Better Preparedness of Communities and Local in Northern and Coastal Areas of Bangladesh” প্রকল্পের উদ্যোগে বিশ্ব স্বেচ্ছাসেবক দিবস উপলক্ষ্যে দুর্যোগ ও উন্নয়নে স্বেচ্ছাসেবকদের অবদান: স্থানীয় প্রশাসনের করণীয় শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) নগরীর লালখান-বাজার এলাকায় বর্ণাঢ্য র্যালি শেষে পিটস্টপ রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর সচিব (ভারপ্তাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) মো. আশরাফুল আমিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, চট্টগ্রাম এর বিভাগীয় কার্যালয়ের ডেপুটি এ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান।
সংলাপের উদ্দেশ্য সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোকপাত করেন ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন- ইপসা ‘র প্রকল্প ব্যবস্থাপক সানজিদা আক্তার। ইপসার প্রজেক্ট অফিসার মুহাম্মদ আতাউল হাকিম এর সঞ্চালনায় সংলাপের মূল প্রবন্ধ পাঠ ও বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন ইপসার প্রশিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক মোহাম্মদ বখতিয়ার উদ্দিন।
এছাড়াও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড সচিব তোফায়েল আহমেদ, লালখান বাজার ওয়ার্ড সচিব মুজিবুর রহমান, ইপসার ইয়ূথ কো- অর্ডিনেটর আফরা নাওয়ার, মেয়র পদক প্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক আবু বক্কর সিদ্দিক, ২০২৫ জাতীয় পদক প্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক মো. ইমরান হোসেন, মো. আশিকুল আলম প্রমুখ।

প্রধান অতিথি মো. আশরাফুল আমিন বলেন, “চট্টগ্রাম একটি দুর্যোগপ্রবণ শহর। ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড, জলাবদ্ধতা বা ভূমিধস প্রতিটি সংকটে প্রথমে সাড়া দেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। ইপসা-প্রশিক্ষিত তরুণদের উপস্থিতি আমাদের নগর ব্যবস্থাপনায় একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন এখন স্বেচ্ছাসেবক দলগুলোকে আরও সুসংগঠিতভাবে কাজে যুক্ত করতে চায়। এজন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, তথ্য বিনিময় এবং যৌথ মহড়ার আয়োজন আমরা বাড়াবো।” তিনি আরও বলেন, “একবিংশ শতাব্দীর নগর উন্নয়নে জনসম্পৃক্ততা অপরিহার্য। সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণ প্রশাসনিক কার্যক্রমকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর করে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ভবিষ্যতে ওয়ার্ড-ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নেবে।”
বিশেষ অতিথি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম উপ সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, “দুর্যোগের প্রথম ১৫ মিনিট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আর এই সময়টিতে প্রাথমিক সাড়া দেন স্বেচ্ছাসেবকরাই।” তিনি আরও বলেন, “অগ্নিকাণ্ড, পাহাড়ধস, ভবন ধস, সড়ক দুর্ঘটনা বা যেকোনো জরুরি অবস্থায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের তাৎক্ষণিক সহায়তা আমাদের উদ্ধারকাজকে অনেক সহজ করে। ইপসা দীর্ঘদিন ধরে যে দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করছে, তারা মাঠে আমাদের সত্যিকারের সহযোগী।”তিনি নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির বিষয়ে বলেন,“স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি হলেই দুর্যোগ মোকাবিলা আরও দ্রুত ও পেশাদার হবে। আমরা ভবিষ্যতে কমিউনিটি-বেইজড ফায়ার সেফটি প্রশিক্ষণ, নিয়মিত ড্রিল এবং সচেতনতা কর্মসূচিতে এসব স্বেচ্ছাসেবকদের যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছি।”


