একজন মানুষের পরিশ্রম, সাধনা, অধ্যবসায় ও ইচ্ছাশক্তির সামনে দারিদ্র্যতা কখনো বাধা হয়ে ওঠতে পারে না। একাগ্রতা ও অদম্য মনোবল থাকলে সকল প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে জীবনের লক্ষ্যস্থলে পৌঁছা যায়। ঠিক একইভাবে জীবনের লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হয়েছেন মো.আবদুল কুদ্দুস রাসেল এফসিএ।
মো.আবদুল কুদ্দুস রাসেল ১৯৮২ সালে ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মো. আবুল হোসেন চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেডে হিসাব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত রেকর্ডকিপার,মাতা-জোহরা বেগম, গৃহিণী। পরিবারের তিন সন্তানের মধ্যে রাসেল জৈষ্ঠ্য। বাবার স্বল্পবেতনের উপার্জনে তিন সন্তানকে নিয়ে সংসার ও তাদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে জীবনযাপন করা খুব কঠিন ছিল। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাঁর মা জোহরা বেগম ১৯৮৭ সালে তিনসন্তানকে সুশিক্ষিত করার লক্ষ্যে গ্রাম ছেড়ে চট্টগ্রামে স্বামীর ছোট বাসায় বসবাস শুরু করেন এবং রাসেল টিএসপি কমপ্লেক্স সেকেন্ডারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হন। আর্থিক টানাপোড়নের মধ্যেও রাসেলের বাবার ইচ্ছা ছিল বড়ছেলেকে কোনোভাবে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেডে মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে যোগদান করাবেন। ১৯৯৮ সালে রাসেল এসএসসি পরীক্ষায় লেটার মার্কসহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। রাসেলের পড়ালেখার এ সফলতা দেখে তাঁর বাবার অফিসের সহকর্মীরা পরামর্শ দেন- তাকে চাকরিতে না দিয়ে বরং কষ্ট হলেও তার পড়াশোনা যেন চালিয়ে যায়। ২০০০ সালে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় লেটার মার্কসহ চট্টগ্রাম সরকারী কমার্স কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একই কলেজে বি.কম এ ভর্তি হন। ২০০৩ সালে বি.কম থেকে সারাদেশে বাণিজ্য বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং এ কলেজ থেকে তিনি কৃতিত্বের সাথে এম.কম সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি স্কলারশীপ নিয়ে বাংলাদেশের স্বনামধন্য সিএ ফার্মে ভর্তি হন এবং ২০১৩ সালে আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি (সিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে অনন্য এ ফল অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রশংসিত হন। বর্তমানে তিনি একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে উর্ধ্বত¦ন মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে ন্যায়, নিষ্ঠার সাথে সমাজসেবা, কল্যাণকর ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন এবং ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে এক অনবদ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন।

উল্লেখ্য যে, তিনি চট্টগ্রাম ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য, ফেনী জেলা সমিতি-চট্টগ্রামের আজীবন সদস্য, চট্টগ্রাম সমিতি-কুমিল্লার আজীবন সদস্য এবং মীরসরাই এডুকেশন সোসাইটি-চট্টগ্রামের আজীবন সদস্য।
সর্বোপরি, তিনি তাঁর সফলতার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন এবং সবার কাছে দোয়াপ্রার্থী।

