রাজধানী ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাজধানীর বংশাল থানার ডিউটি অফিসার।

তিনি জানিয়েছেন, বংশালের কসাইতলীতে এক পাঁচ তোলা ভবনের রেলিং ভেঙে পড়লে তিনজন পথচারি নিহত হন।
নিহতদের মরদেহ সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিডফোর্ড) রয়েছে। হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন শিশু। আরেকজন ওই মেডিকেল কলেজেরই ৫২ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার নাম রাফিউল। অপর একজনের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রেলিং পড়ে নিহতদের রক্তাক্ত দেহ রাস্তায় পড়েছে আছে। আশপাশের কয়েকজন লোক দৌড়ে এসে সেগুলো উদ্ধার করছেন। অন্তত একজনের মুখ ও মাথার সামনের অংশ থেতলে গেছে।
এ সময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অনেকেই আতঙ্কে বাসা-বাড়ি থেকে তাড়াহুড়ো করে রাস্তায় বের হয়ে আসেন। ভূমিকম্পটি কয়েক সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
ঢাকা যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা খাইরুল আলম জানান, ভূমিকম্প হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারার পরই এক ছেলে ও ছয় মাস বয়সী শিশুটিকে নিয়ে ভবনের নিচে খোলা জায়গায় নেমে আসেন তিনি। এ সময় সেখানে নিচে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে দেখেন আশপাশের ভবনে বসবাসরত অন্যান্য সবাইকে ।
চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ের বাসিন্দা আরিফ উল্লা বলেন, ভূমিকম্পের জন্য আতঙ্কিত হয়ে এ এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দা ভবন ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করে, জীবনে এমন তীব্র ভূমিকম্প আর অনভূতি হয়নি বলে জানান।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ৫। এর কেন্দ্রস্থল নরসিংদী।
ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল।
চাঁদপুর, নীলফামারী, সীতাকুণ্ড, সিরাজগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, পটুয়াখালী, বগুড়া, বরিশাল, মৌলভীবাজার থেকে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের সময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। ভূমিকম্পটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল।
এদিকে পাকিস্তানেও ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী জানিয়েছে, শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ভোরে দেশটিতে ভূমিকম্প হয়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ১৩৫ কিলোমিটার গভীরে।

