দেশে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৯২ জন- যা এক দিনের হিসেবে এ বছরের সর্বোচ্চ। এর আগে ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয় গত ২৪ জুন; ৩৯৪ জন। চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১২ হাজার ৭৬৩ জনে; আর মৃতের সংখ্যা ঠেকল ৪৮ জনে।
সোমবার (৭জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, এদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন বরিশালের; আরেকজন খুলনার।

মশাবাহিত এ রোগে চলতি মাসে মৃত্যু হল ছয়জনের। ১৯ জনের প্রাণ গেছে আগের মাসে। এছাড়া জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে তিন জন, এপ্রিলে সাত জন ও মে মাসে তিনজন ডেঙ্গুতে মারা যান। ফেব্রুয়ারি মাসে কারো মৃত্যুর তথ্য দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হন ২৪৬৭ জন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে ১১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন, মে মাসে ১৭৭৩ জন এবং জুন মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন ৫৯৫১ জন রোগী। বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি নতুন রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরিশাল বিভাগে, ১৫৪ জন।
এছাড়া ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮৯ জন, ঢাকা বিভাগে ৬৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫১ জন, খুলনা বিভাগে ৫৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ৬১ জন, রংপুর বিভাগে তিনজন এবং সিলেট বিভাগে এক জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
ডেঙ্গু নিয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১৩০৬ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৮২ জন ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৯২৪ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।
দেশে ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ১ হাজার ২১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর এই সংখ্যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। আর মৃতের সংখ্যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ২২ জন
এদিকে টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ। এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় ২২ জনের শরীরে ডেঙ্গুর জীবাণু পাওয়া গেছে। এনিয়ে জুলাই মাসের সাতদিনে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩ জন।
সোমবার (৭ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবিদনে আরও জানানো হয়, নতুন আক্রান্ত ২২ জনের মধ্যে ৬ জন চট্টগ্রাম মেডিকেলে, ১ জন বিআইটিআইডি ও ২ জন জেনারেল হাসপাতালে শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় ৫ জন ও প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে শনাক্ত হয়েছে ৮ জন।
আক্রান্তদেন মধ্যে ১৩ জন পুরুষ, ৫ জন নারী ও ৪ শিশু রয়েছে। এ নিয়ে জুলাই মাসে মোট ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলো ৮৩ জন। চলতি বছর মোট আক্রান্ত ৫২৮ জন। এদের মধ্য দু’জন মারা গেছেন।
তবে আক্রান্তের হিসেবে ২৯৪ জনই বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। এ তালিকায় শীর্ষে আছে বাঁশখালী উপজেলা, এখানে আক্রান্ত ৮৯ জন।

