শনিবার, ২ মে ২০২৬

[the_ad id='15178']

১৩২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দিল চসিক

বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান: মেয়র ডা. শাহাদাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ১৩২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। সোমবার সকালে নগরীর থিয়েটার ইন্সটিটিউটে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননা ও সম্মানির টাকা তুলে দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

- Advertisement -

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমাদের বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ একটি স্বপ্ন নিয়ে হয়েছিল—সমতা, মানবিক মর্যাদা, এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন। সেই চেতনা ধারণ করে সেদিন এদেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কিন্তু গত ৫৩ বছরে বারবার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খণ্ডিত করা হয়েছে এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখে আনতে ব্যর্থ হয়েছে জাতি। ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য মুক্তিযুদ্ধের বিপ্লব উদ্যানকে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করা হয়েছে। নতুন প্রজন্ম জানে না, সেদিন ২৫শে মার্চের কালো রাতে কী হয়েছিল। সেদিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কীভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন—এমন অনেক প্রশ্ন এখনো ইতিহাসের পাতা থেকে পরিষ্কার হয়নি।

- Advertisement -shukee

“আজকে আমরা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানাই, প্রকৃত শহীদ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা হোক। কতজন বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, এবং বীরপ্রতীক রয়েছেন তা জানাতে হবে। একইসঙ্গে সেক্টর কমান্ডার এবং সাব-সেক্টর কমান্ডারদের সঠিক নাম ইতিহাসে সংরক্ষণ করতে হবে। গত ১৬ বছরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিভিন্নভাবে বিকৃত করা হয়েছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের সোল এজেন্সি দাবি করে এসেছে, তাদের আসল অবদান কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন অনেকেই আছেন যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন, অথচ আজ নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করেন। এই মিথ্যা দাবির বিরুদ্ধে সত্যিকারের ইতিহাস সামনে আনতে হবে। আমরা নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে চাই। সেক্টর কমান্ডার কারা ছিলেন, কোথায় যুদ্ধ হয়েছে, বীরশ্রেষ্ঠদের আত্মত্যাগ—এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে তারা আমাদের দিকে আঙুল তুলবে।”

মেয়র আরো বলেন, চট্টগ্রামে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করব, যারা প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণে কাজ করবে। সেখানে কোনো রাজনৈতিক বিভাজন থাকবে না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে যারাই অবদান রেখেছেন, তাদের নাম সংরক্ষণ করা হবে। আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে দুর্নীতি, বৈষম্য, নির্যাতন থাকবে না। মানুষের ভোটাধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত হবে। এই চেতনা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব এবং প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সমুন্নত রাখব।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজল বারিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম ইউসুফ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মনসুরের ছোট ভাই ডা. মোহাম্মদ রকিব উল্লাহ। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা, শিক্ষা কর্মকর্তা মোছাম্মৎ রাশেদা আক্তারসহ বিভাগীয় ও শাখা প্রধানবৃন্দসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ।

বিজয়ের ৫৩ বছরেও মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জিত হয়নি: মেয়র ডা. শাহাদাত

বিজয়ের ৫৩ বছরেও মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সোমবার বিজয় দিবসে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ডিসি পার্কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন মেয়র। মেয়র বলেন, বিজয়ের ৫৩ বছরেও বাংলাদেশের  মানুষের মৌলিক অধিকার তথা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত হয়নি।  ৫৩টি বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু আমরা এখনো গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি। এখনো মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, এবং স্বাস্থ্যের জন্য আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হলে, আমরা আমাদের বিজয়ের প্রকৃত সুফল অর্জন করতে পারব।

“বর্তমানে মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের যে নিশ্চয়তা নেই এবং গণতন্ত্রের পথে যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা আমরা অতিক্রম করার চেষ্টা করছি। মানুষের মৌলিক অধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার, আইনের শাসন, মানবাধিকার, এবং ভোটের অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা যদি মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারি, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়—তাহলে আমরা একটি গণতান্ত্রিক, সুন্দর, দুর্নীতিমুক্ত, ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য, সংবিধান থেকে শুরু করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সংস্কারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একটি প্রাতিষ্ঠানিক গণতান্ত্রিক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে মানুষ তাদের কাঙ্ক্ষিত সংসদ সদস্যকে নির্বাচিত করতে পারবে এবং একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করতে পারবে।”

মেয়র আরো বলেন, আজকের এই বিজয় দিবসটি আমাদের জন্য আরেকটি বিজয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সেটি হলো ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আগস্টের বিজয়। এই বিজয় এবং বিজয় দিবসের মূল শিক্ষা হলো আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজনীয়তা। আজ আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি, তাহলে মানুষের হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে পারব। মানুষের মৌলিক অধিকার, যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, এবং স্বাস্থ্য—এসব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

“আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজের নষ্ট হওয়া অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে আবারো দুর্নীতিমুক্ত, সমৃদ্ধশালী, এবং গণতান্ত্রিক একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। এ বাংলাদেশ হবে জনগণের মৌলিক অধিকারসমৃদ্ধ, যেখানে মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবে, কথা বলার স্বাধীনতা ফিরে পাবে, এবং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। এটাই হোক আজকের বিজয়ের দিনের অঙ্গীকার।

মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মেয়র। এসময় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ বিভাগীয় ও শাখা প্রধানবৃন্দসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও